• ruralinfobd.com
  • ruralinfobd.com
  • ruralinfobd.com
  • ruralinfobd.com

a project of...

Win Incorporate

Road# 11 (old), House# 39/A ,
5th Floor, Dhanmondi, Dhaka.
tel: 01720 096 123

Results 101 - 105 of 158

কৃষি বিষয়ক তথ্য/ফল জাতীয় ফসল
পরিচিতি বাংলা নামঃ কাঁঠাল ইংরেজি নামঃ Jackfruit বৈজ্ঞানিক নামঃ Artocarpus heterophyllus বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। কাঁঠাল আকারের দিক থেকে সবচেয়ে বড় ফল। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষ হয় এবং এর মোট উৎপাদন প্রায় দু’লাখ ৬০ হাজার টন। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ১০ মেট্রিন টন। বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্য এবং যুক্তরাজ্যে কাঁঠাল এবং কাঁঠালের বীচি রফতানি করছে। যুক্তরাজ্যে রফতানিকৃত কৃষি পণ্যসমূহের মধ্যে কাঁঠালের স্থান দ্বিতীয়। এ ফল রফতানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। কাঁঠালে প্রচুর শর্করা, আমিষ ও ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে। দামের তুলনায় এত বেশি পুষ্টি উপাদান আর কোন ফলে পাওয়া যায় না। কাঁচা ফল তরকারি, পাকলে ফল হিসেবে এবং বীজ ময়দা ও তরকারি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বীজ পুড়িয়ে খাওয়া যায়। পুষ্টিমাণ খাবারযোগ্য প্রতি ১০০ গ্রামে কাঁঠালের পুষ্টিমাণ নিম্নে দেয়া হলো- উপাদান পরিমাণ কাঁচা পাকা আঁটি জলীয় অংশ (%) ৮৪ ৭৭.২ ৬৪.৫ শর্করা (গ্রাম) ৯.৪ ১৮.৯ ২৫.৮ আমিষ (গ্রাম) ২.৬ ১.৯ ৬.৬ চর্বি (গ্রাম) ০.৩ ০.১ ০.৪ আশ (গ্রাম) - ১.১ - ক্যালসিয়াম (মিলিগ্রাম) ৫০ ২০ ২১ ফসফরাস (মিলিগ্রাম) ৯৭ ৩০ ২৮ লৌহ (মিলিগ্রাম) ১.৫ ৫০০ - পটাশিয়াম (মিলিগ্রাম) ২৪৬ - - ভিটামিন-এ (আঃ এঃ) - ৫৪০ ১৭ থায়ামিন (মিলিগ্রাম) ০.১৫ ৩০ - রাইরোফ্লাভিন (মিলিগ্রাম) ০.১১ - - ভিটামিন সি (মিলিগ্রাম) ১১ - - ক্যালরী (মিলিগ্রাম) - ৮৪ - ওষুধিগুণ কাঁঠালের শাঁস ও বীজকে চীন দেশে বলবর্ধক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কাঁঠালের পোড়া পাতার ছাইয়ের সাথে ভুট্টা ও নারিকেলের খোসা একত্রে পুড়িয়ে নারিকেল তেলের সাথে মিশিয়ে ঘা বা ক্ষত স্থানে ব্যবহার করলে ঘা শুকিয়ে যায়। শিকড়ের রস জ্বর এবং পাতলা পায়খানা নিরাময়ে ব্যবহার হয়। যে সব জায়গায় বেশি পরিমাণে চাষ হয় বাংলাদেশের সব জেলাতেই কাঁঠালের চাষ হয়। তবে ঢাকার উঁচু অঞ্চল, সাভার, ভালুকা, ভাওয়াল ও মধুপুরের গড়, বৃহত্তর সিলেট জেলার পাহাড়ি এলাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, নরসিংদী, দিনাজপুর, রংপুর এলাকায় সর্বাধিক পরিমাণ কাঁঠাল উৎপন্ন হয়। জাত দেশে কাঁঠালের কোন অনুমোদিত জাত নেই তবে কাঁঠালের কোষের বৈশিষ্ট্য অনুসারে কাঁঠালকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। যেমন : খাজা,আদরসা ও গালা। ১. খাজা বা চাউলা : কাঁঠালের কোষ বা শাঁস পাকার পরও কম রসালো ও অপেক্ষাকৃত শক্ত বা কচকচে হয়। কোষ চিপলেও সহজে রস বের হয়না, শাঁসের রং ফ্যাকাসে হলুদ ও স্বাদে মোটামুটি মিষ্টি হয়। খোসার রং পাকার পরও সবুজাভ থাকে এবং গায়ের কাটাগুলি মোটামুটি চ্যাপ্টা, বড় ও মসৃণ হয়। ২. আদরসা ও গালা : পাকার পর শাঁস বা কোষ অত্যন্ত নরম, কোমল, মিষ্টি ও রসালো হয়। কখনও কখনও শাঁস টকমিষ্টিও হয়ে থাকে। কোষ অপেক্ষাকৃত ছোট হয়। খোসার গায়ে কাটাগুলো খুব একটা চ্যাপ্টা হয়না। পাকার একটু লালচে হলুদাভ হয়। কোষগুলিকে সহজেই আলাদা করা যায়। রোপণ পদ্ধতি জমি নির্বাচন ও মাটি পানি দাঁড়ায় না এমন উঁচু ও মাঝারি উঁচু সুনিষ্কাশিত উর্বর জমি কাঁঠালের জন্য উপযোগী। দো-আঁশ, বেলে দো-আঁশ,এটেল ও কাকুরে মাটিতেও এর চাষ করা যায়। রোপণ পদ্ধতি সমতল ভূমিতে বর্গাকার, আয়তাকার বা ষড়ভুজী, পাহাড়ী ভূমিতে কন্টুর পদ্ধতিতে এক বছর বয়স্ক সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত চারা/কলম রোপণ করতে হবে। চারা রোপণের সময় চারা বা কলম রোপণের সময় মধ্য জ্যৈষ্ঠ থেকে মধ্য শ্রাবণ (জুন-আগস্ট) মাস। চারা থেকে চারার দূরত্ব ১২ মিটার (৪০ ফুট) সারি থেকে সারির দূরত্ব ১২ মিটার (৪০ ফুট) গাছের সংখ্যা হেক্টরপ্রতি ৭০ টি।   আন্তঃপরিচর্যা সেচ ব্যবস্থা চারা/কলমের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য সেচ দেয়া প্রয়োজন। ফল ধরার ১০ থেকে ১৫ দিন পরপর সেচ প্রয়োগ করলে ফলের আকার ও ফলন বৃদ্ধি করা সম্ভব। সারের মাত্রা ও প্রয়োগ প্রতি গর্তে সারের পরিমাণ সারের নাম সারের পরিমাণ/গর্ত গোবর/কম্পোস্ট ২৫ থেকে ৩৫ কেজি টিএসপি ১৯০ থেকে ২১০ গ্রাম এমওপি ১৯০ থেকে ২১০ গ্রাম • গর্ত ভর্তির ১০ থেকে ১৫ দিন পর গর্তের মাঝখানে চারা/কলম লাগাতে হবে। • রোপণের পরপরই পানি সেচ দিতে হবে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রতি গাছের জন্য সারের পরিমাণ নিম্নরূপ সারের নাম গাছের বয়স ভেদে সারের পরিমাণ ৬-১২ মাস ১-২ বছর ২-৩ বছর ৪-৫ বছর ৬-৭ বছর ৮-৯ বছর ১০ তদূর্ধ গোবর/কম্পোস্ট ২০-৩০ কেজি ২৫-৩৫ কেজি ৩০-৪০ কেজি ৪০-৫০ কেজি ৪৫-৫০ কেজি ৫০-৫৫ কেজি ৫৫-৬০ কেজি ইউরিয়া ১৯০-২১০ গ্রাম ২৯০-৩১০ গ্রাম ৩৯০-৪১০ গ্রাম ৪৯০-৫২০ গ্রাম ৫৯০-৬১০ গ্রাম ৬৯০-৭২০ গ্রাম ১০০০-১২০০ গ্রাম টিএসপি ২৪০-২৬০ গ্রাম ৩৯০-৪১০ গ্রাম ৫৪০-৫৬০ গ্রাম ৫৯০-৭১০ গ্রাম ৮৪০-৯৬০ গ্রাম ৯৯০-১০১০ গ্রাম ১৫০০-১৬০০ গ্রাম এমওপি ২৪০-২৬০ গ্রাম ২৪০-২৬০ গ্রাম ৪৪০-৪৬০ গ্রাম ৫৪০-৫৬০ গ্রাম ৬৪০-৬৬০ গ্রাম ৭৪০-৭৬০ গ্রাম ১০০০-১২৫০ গ্রাম জিপসাম ৪০-৬০ গ্রাম ৬৫-৮৫ গ্রাম ৯০-১১০ গ্রাম ১১৫-১৩৫ গ্রাম ১৪০-১৬০ গ্রাম ১৬৫-১৮৫ গ্রাম ২০০-৩০০ গ্রাম বি: দ্র: এসব সার ২ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় (মধ্য মে থেকে মধ্য জুলাই) মাসে ১ম বার এবং আশ্বিন (মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে মধ্য অক্টোবর) মাসে ২য় বার প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগের পরপরই মাটিতে প্রয়োজনীয় রস না থাকলে অল্প পানি দিতে হবে। ডাল ছাঁটাই • গাছের প্রধান কান্ডটি যাতে ১.০ থেকে ১.৫ মিটার সোজাভাবে উঠে সেদিকে খেয়াল রেখে গাছের গোড়ায় বেড়ে উঠা অপ্রয়োজনীয় শাখা/ডাল কেটে ফেলতে হবে। • ফল সংগ্রহের পর ফলের ঝুলন্ত/অবশিষ্ট বোঁটা এবং রোগাক্রান্ত শুকনো ও মরা শাখাগুলো সর্বদাই কেটে ফেলতে হবে। • কাটা স্থানে বর্দোপেস্ট (প্রতি লিটার পানিতে ১০০ গ্রাম তুঁতে ও ১০০ গ্রাম চুন) এর প্রলেপ দিতে হবে। • কাঁঠাল ধরার সময় গাছের গোড়ায় তালপাতা বা খেজুরের ডাল দিয়ে ঘিরে দিতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছেঁটে দিতে হবে। ফল পাতলাকরণ ফল কচি থাকতেই ঘন থোকা থেকে ছোট দুর্বলগুলো বেছে ফেলে দিলে বাকিগুলো আকারে বড় হবে। পোকামাকড় ও রোগবালাই পোকামাকড় পোকার নাম লক্ষণ প্রতিকার কান্ডের মাজরা পোকা পোকা কচি ডাল ও কান্ড ছিদ্র করে সুড়ঙ্গ করে ফেলে। আক্রমণের অন্যতম লক্ষণ হিসেবে গর্তের মুখে পোকার বিষ্ঠা দেখা যায়। ১. সুচালো লোহার শলাকা গর্তের ভিতর ঢুকিয়ে খুঁচিয়ে গ্রাব অবস্থায় পোকা মারতে হবে। ২. আক্রমণ বেশি হলে খোঁচানো গর্তের মধ্যে কেরোসিন বা পেট্রোল অথবা ০.০২% ভেপোনা দিয়ে গর্তের মুখ কাদা মাটি বা বর্দোপেস্ট দিয়ে বন্ধ করতে হবে। ফলের মাজরা পোকা এই পোকার কীড়া ছোট ফলের মধ্যে ফুটো করে ঢুকে যথেষ্ট ক্ষতি সাধন করে। আক্রান্ত ফল অনেক সময় পুরোটাই পচে যায়। ১. আক্রান্ত ফলগুলো সংগ্রহ  করে ধ্বংস করতে হবে। ২. আক্রমণ দেখার সাথে সাথে সিমবুস/বাসথ্রিন ৫০ ইসি প্রতি লিটার পানির সাথে ১ মিলি হারে মিশিয়ে অথবা সুমিথিয়ন/লিবাসিড ৫০ ইসি ২ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। রোগবালাই রোগের নাম লক্ষণ প্রতিকার কাঁঠাল পচা রোগ এ রোগের আক্রমণে কচি ফলের গায়ে বাদামি রংয়ের দাগের সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত আক্রান্ত ফল গাছ হতে ঝরে পড়ে। গাছের পরিত্যক্ত অংশে এ রোগের জীবাণু বেঁচে থাকে এবং বাতাসের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। ১. গাছের নীচে ঝরে পড়া পাতা ও ফল পুড়ে ফেলতে হবে। ২. ফলিকুর/টিল্ট নামক ছত্রাকনাশক ০.০৫% হারে পানিতে মিশিয়ে গাছে ফুল আসার পর হতে ১৫ দিন পরপর ৩ বার স্প্রে করতে হবে। মুচিঝরা রোগ কাঁঠালের মুচি (স্ত্রী পুষ্পমঞ্জুরী) ছোট অবস্থাতেই কালো হয়ে ঝরে পড়ে। পুরুষ পুষ্পমঞ্জুরী স্বাভাবিকভাবেই কালো হয়ে ঝরে পড়ে। ১. মুচি ধরার আগে ও পরে ১০ দিন পরপর ২ থেকে ৩ বার বোর্দো-মিশ্রণ অথবা ম্যাকোপ্রেক্স বা কিউপ্রাভিট প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। ২. ডাইথেন এম-৪৫ অথবা রিডোমিল এম জেড ৭৫, ২.৫ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।   সংগ্রহ, ফলন, সংরক্ষণ ও বংশবিস্তার ফল সংগ্রহ গাছের সমস্ত ফল এক সাথে পরিপক্ক হয় না। ফল পাকতে সাধারণত: ১২০ থেকে ১৫০ দিন সময় লাগে। ফলের গায়ের কাটা যখন ক্রমশ চ্যাপ্টা হতে থাকে এবং কাটার অগ্রভাব কালো রং ধারণ করে তখনই ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়। কাঁঠাল সাধারণত: জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে সংগ্রহ করা হয়। কোন কোন কাঁঠাল আগাম এবং কোন কোনটি নাবী। অমৌসুমি কাঁঠাল পৌষ-মাঘ মাসে সংগ্রহ করা হয়। ফলন যদিও সাত-আট বছর বয়স থেকেই গাছে ফল ধরা শুরু হয় কিন্তু ষোড়শী গাছেই সবচেয়ে বেশি ফল ধরে। এসময় বছরে প্রতিটি গাছে গড়ে ২০০ থেকে ২৫০টি কাঁঠাল ধরে থাকে। প্রতিটি ফলের ওজন ৩ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে অবস্থাভেদে এর তারতম্যও লক্ষ্য করা যায়। ফল পাকানো ও সংরক্ষণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাঁঠাল পাকানো কোন সমস্যা নয়। কেননা ফল সংগ্রহের সময় তাপমাত্রা এমনিতেই বেশি থাকে যার ফলে পরিণত ও পরিপুষ্ট ফল সংগ্রহের পর মেঝেতে খড় বিছিয়ে সাজিয়ে রাখলেই ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে ফল পেকে যায়। কেউ কেউ ফল পাড়ার পর গরে তোলার আগে কয়েক ঘন্টা রোদে তাপিয়ে উত্তপ্ত করে নেয়। এতে কাঁঠাল পাকানো ত্বরান্বিত হয়। বংশ বিস্তার সাধারণত: কাঁঠালের বীজ থেকেই চারা তৈরি করা হয়। যদিও এতে গাছের মাতৃবৈশিষ্ট্য বজায় থাকে না তথাপি ফলনে বিশেষ তারতম্য দেখা যায় না। ভালো পাকা কাঁঠাল থেকে পুষ্ট বড় বীজ বের করে ছাই মাখিয়ে ২ থেকে ৩ দিন ছায়ায় শুকিয়ে বীজতলায় বপন করলে ২০ থেকে ২৫ দিনে চারা গজাবে। ৩ থেকে ৪ মাসের চারা সতর্কতার সাথে তুলে মূল জমিতে রোপণ করতে হবে। এছাড়া অঙ্গজ বংশ বিস্তার পদ্ধতি, যেমন- গুটি কলম, ডাল কলম, চোখ কলম, চারা কলম এবং টিস্যু কালচার পদ্ধতি উল্লেখযোগ্য। কাঁঠালের সাথে আন্ত:ফসল চাষ : দীর্ঘমেয়াদী ফলের মতই এর পত্রাঞ্চলের বিস্তৃতি ও ফল ধরতে অনেক সময় লাগে। এই দীর্ঘসময় অনর্থক বসে না থেকে কাঁঠালের বাগানে বিভিন্ন প্রকার আন্ত:শস্য যেমন : কলা, ঢেঁড়শ. বেগুন, মরিচ, টমেটো, কলাই, ছোলা প্রভৃতি আবাদ করা যেতে পারে। শেষোক্ত ফসল দুটি শুধু বাড়তি আয়ই যোগায় না, জমিতে নাইট্রোজেনের যোগানও দিয়ে থাকে। এ ছাড়া গাছ বড় হয়ে গেলেও ছায়ায় জন্মে এরূপ ফসল যেমন : আদা, হলুদ প্রভৃতির চাষ করা যেতে পারে। তথ্যসূত্র ১. কৃষি প্রযুক্তি হাতবই (খন্ড-২) চতুর্থ সংস্করণ, বিএআরআই উদ্ভাবিত কৃষি প্রযুক্তির বিবরণী, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, জয়দেবপুর, গাজীপুর ১৭০১, মে ২০০৬। ২. কৃষি প্রযুক্তি হাতবই দ্বিতীয় সংস্করণ, বিএআরআই উদ্ভাবিত কৃষি প্রযুক্তির বিবরণী, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, জয়দেবপুর, গাজীপুর ১৭০১, এপ্রিল ২০০০। ৩. আমাদের দেশী ফল, কৃষি তথ্য সার্ভিস, কৃষি মন্ত্রণালয়, জুন ২০০৫। ৪. ফল চাষের কলাকৌশল, কৃষি তথ্য সার্ভিস, কৃষি মন্ত্রণালয়, জুন ২০০৬। ৫. ফলের বাগান, ডক্টর মোহাম্মদ ফেরদৌস মন্ডল, উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ, মোঃ রুহুল আমিন, উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউট, শেরে বাংলা নগর, ঢাকা, জুলাই ১৯৯২।
Tuesday, 19 April 2011 | 546 hits
কৃষি বিষয়ক তথ্য/ফল জাতীয় ফসল
পরিচিতি কুল বরই আমাদের জীবনের সাথে মিশে আছে। কুলের চাটনি বা আচারের কথা মনে হলে কার না জিভে পানি আসে। কুল বরই-এর অনেক ধরনের ব্যবহার থাকায় এর কদর অনেক বেশি। পাকা-টাটকা অবস্হায় ও শুকনো অবস্হায় এটি খাওয়া যায়। তাছাড়াও এটি বিভিন্ন খনিজ ও ভিটামিন সি, ভিটামিন এ-এর ভালো উৎস। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, কুল-ই আমাদের দেশের একমাত্র শীতকালীন মৌসুমী ফল। যখন অন্য কোন দেশীয় ফল বাজারে থাকে না তখন এ ফল বাজারজাত করা যায়। কাজেই কুলের গুরুত্ব ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা অনেক বেশি। বর্তমানে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে আপেলকুল এর চাষাবাদ শুরু হওয়ায়, লাভজনক এ কৃষি পণ্যটির প্রতি আমাদের দেশের অনেক কৃষকের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। পুষ্টিমাণ কুলের খাবারযোগ্য প্রতি ১০০ গ্রামে নিম্নলিখিত পুষ্টি রয়েছে- উপাদান পরিমাণ জলীয় অংশ ৮০ খনিজ ০.৫০ খাদ্যশক্তি ১৫ আমিষ ১ চর্বি ০.৩০ শর্করা ১৮ ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম লৌহ ১.৮ মিলিগ্রাম ক্যারোটিন সামান্য পরিমাণ ভিটামিন-বি-১ ০.০২ মিলিগ্রাম ভিটামিন-বি-২ ০.০৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি (আপেল কুল) ৬১.৩০ মিলিগ্রাম সূত্র: বাংলাদেশের ফল, রশিদ, কাদের ও হোসেন; রশিদ পাবলিশিং হাউস, গাজীপুর, ১৯৮৭। যে সব জায়গায় বেশি পরিমাণে চাষ হয় রাজশাহী বিভাগ অঞ্চলের নাটোর, নওগাঁ ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তুলনামূলকভাবে আপেল কুলের চাষযোগ্য জমির পরিমাণ বেশি। মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও বগুড়াতেও আপেলকুল চাষ হয়। এছাড়া পার্বত্য জেলা সমূহ এবং নোয়াখালী ও অন্যান্য এলাকার চর এলাকায় প্রচুর আপেল কুল উপযোগী জমি আছে। এসব এলাকায় কৃষকরা নিজের জমিতে বা লিজ নিয়ে জমিতে বাগান করতে পারেন। এছাড়া খামারের চারপাশে, মিল-কারখানার খালি জায়গায়, পোল্ট্রি খামারের পাশের জায়গায়, রেল লাইন ও মহাসড়কের দু’পাশে সামাজিক বনায়নের আওতায় আপেল কুলের চাষাবাদ করা যেতে পারে। আপেল কুল-এর বৈশিষ্ট্য আপেল কুল বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. মোফাজ্জল হোসেন কর্তৃক উদ্ভাবিত এবং জাতীয় বীজ বোর্ড থেকে অনুমোদিত। আপেল এর মতো রঙ হওয়ার জন্যে কুলটির নাম দেওয়া হয়েছে আপেল কুল। মিষ্টি স্বাদের জন্য অন্য কুলের চেয়ে এটি অনেক ভালো। বৈশিষ্ট্য গাছের আকার: একটি পরিণত গাছ মাঝারি আকৃতির লিচু গাছের মত হতে পারে ও ৫০ বছর ধরে ফল দিতে পারে। ফলের আকার: মাঝারী আকারের বীজ: ছোট । ফলের ওজন: প্রতিটি ১৫ থকে ২০ গ্রাম ওজনের। গাছের বৃদ্ধি: দ্রুত বাড়ে-জুলাই/আগস্ট মাসে রোপণকৃত এক/দেড় ফুট উচ্চতার একটি কলমের চারা ৬ মাসে ৫ থেকে ১০ ফুট লম্বা হতে পারে। স্বাদ: খেতে কচকচে ও কষহীন ও মিষ্টি। ফলন: একটি পরিণত গাছে ১৫০ থেকে ১৮০ কেজি পর্যন্ত ফল ধরা সম্ভব। প্রতি বছর ফলন দেয়। জুলাই/আগস্ট মাসে রোপণ করলে পরবর্তী মৌসুমে অর্থাৎ জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে গাছ প্রতি ১৫ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া সম্ভব। বোটা: শক্ত তাই পরিপক্ক ফল সহজে গাছ থেকে ঝড়ে পড়ে না। চাষের এলাকা: বাণিজ্যিক বাগান, বাড়ির আঙিনা ও টবে চাষযোগ্য। সহনশীলতা: খরা, বন্যা ও লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। খাবারযোগ্য অংশ: ৯৩ ভাগ। বাজার মূল্য: ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। ফলটির রয়েছে বিশাল রপ্তানীর সম্ভাবনা। একর প্রতি গড় আয় বছরে নূন্যতম ৫ লক্ষ টাকা। আপেল কুল চাষে কি লাভ? • প্রতি বছর ফল হয়। • প্রচুর ফলন দেয় ও তাড়াতাড়ি বাড়ে। • বোটা শক্ত, তাই সহজে ঝরে পড়ে না। • বাণিজ্যিকভাবে বাগানে বা বাড়ির আঙ্গিনা ও টবে চাষ করা যায়। • খরা, বন্যা-জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। • বীজ ছোট ও শাঁসের পরিমাণ বেশি। • কলম রোপণের ৮ মাসের মধ্যে ফল পাওয়া যায়। • রোগবালাই-এর আক্রমণ তুলনামূলকভাবে কম। • পুষ্টিমাণ অন্য যে কোন কূলের চেয়ে বেশি। • অন্যান্য কুলের চেয়ে বেশি মিষ্টি ও সুস্বাদু। • খেতে মচমচে ও কষহীন। অন্যান্য কুলের চেয়ে বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায়। স্হান নির্বাচন/চাষের জন্য পরিবেশ ও মাটি/জমি তৈরি স্হান নির্বাচন রোদ পড়ে এমন খোলা জমিতে কলম লাগাতে হয়। ছায়া ঢাকা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় গাছ লাগানো যাবে না। যদি বর্ষা কালে পানি জমার সম্ভাবনা থাকে তাহলে পানি বের করে দেবার সুবিধা থাকতে হবে অথবা চারিদিকের মাটি টেনে, পানির লেবেল থেকে ২ ফুট উঁচু ঢিবি করে গাছ লাগাতে হবে। চাষের জন্য পরিবেশ ও মাটি জলবায়ু মাটির ধরণ বাংলাদেশের নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া কুল চাষের জন্য খুব উপযোগী। বেলে দো-আঁশ থেকে এঁটেল দো-আঁশ সব মাটিতে এবং সব জেলাতেই কুল চাষ করা সম্ভব। জমি তৈরি জমি ভালো করে চাষ দিয়ে (পাওয়ার টিলার দিয়ে দুইটি) বা লাঙ্গল দিয়ে দুই থেকে চারটি করে আড়াআড়ি চাষ দিতে হবে। রোপণ পদ্ধতি গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ১২×১২ ফুট গর্তের আকার দৈর্ঘ্য ৩ ফুট,  প্রস্হ ৩ ফুট, গভীরতা ৩ ফুট গর্ত প্রতি সার ১০০ গ্রাম পটাশ, ২৫০ গ্রাম টিএসপি, ১০০ গ্রাম ইউরিয়া, ৫০০ গ্রাম জিপসাম ও ২০ কেজি গোবর। লাগানোর সময় জুন-জুলাই-আগস্ট সঠিক চাষের জন্য করণীয় • বর্ষার পানি বের হওয়ার সুবিধার্থে জমির ঢালু দিকে সমান্তরালভাবে গাছের সারি করতে হবে। • গর্ত খোড়ার সময়, উপরের অর্ধেক মাটি ও নীচের অর্ধেক মাটি আলাদা ঢিবি করে রাখতে হবে। • গর্তটি কমপক্ষে এক সপ্তাহ খোলা রাখতে হবে। • গর্তে সার প্রয়োগের সময় দুইটি ঢিবির মাটি একসাথে সমানভাবে মিশিয়ে দিতে হবে (জিপসাম সার ও অন্যান্য সার প্রয়োগের ১৫ দিন আগে মাটিতে মিশাতে পারলে ভাল)। • গর্তটি ভরাট করার দুই সপ্তাহ পর কুল গাছের কলমটি লাগাতে হবে। • গাছ রোপণের এক মাস পর গাছের চারিদিকে মাটিতে ১০০ গ্রাম ইউরিয়া মিশিয়ে পানি দিতে হবে। • ছুরি দিয়ে পলিব্যাগ এমনভাবে কাটতে হবে যেন গাছের গোড়ার মূল মাটি ঝরে না যায়। • পলিব্যাগে, চারাটির যতটুকু মাটির নীচে ছিল, ঠিক ততটুকুই মাটির নীচে দিতে হবে। • গাছ লাগানোর পর অবশ্যই বাঁশের খুটি দিয়ে সোজা করে দিতে হবে যেন একটি কান্ড সোজা উপরের দিকে উঠতে পারে। বিশেষ সতর্কতা কোন অবস্হাতেই কলম করা অংশের নীচে কোন ডগা বা কুশি বাড়তে দেওয়া যাবে না, কেননা ঐ গুলি পরবর্তীতে প্রচন্ড শক্তিতে বেড়ে কলম করা অংশটির মৃত্যু ঘটায়। আর একটি ব্যাপার হলো, অনেক সময় কুলের চারার কলম করা অংশে প্লাস্টিকের ফিতা জড়ানো দেখতে পাওয়া যায়। নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহের ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের মাথায় অবশ্যই ধারালো ব্লেড দিয়ে ঐ টেপ বা ফিতা কেটে দিতে হবে। তা না হলে বাড়ন্ত গাছ ঐ ফিতার চাপে কেটে গিয়ে মারা যাবে। টবে আপেল কূল চাষ বেলকনিতে অথবা ছাদে রোদ পড়ে এমন জায়গায় ২০ ইঞ্চি মাটির টব অথবা হাফ ড্রামে সম পরিমাণ মাটি ও গোবর সার মিশিয়ে কলম লাগাতে হবে। এর পর প্রতি ৬ মাস পর পর ৩  থেকে ৫ টি "সিলভামিক্স ফোর্ট" ট্যাবলেট গাছের গোড়া থেকে ৩ ইঞ্চি দূরে মাটির ৩ থেকে ৬ ইঞ্চি গভীরে পুঁতে রাখলে ভালো। পোকামাকড় দমন ও ছাঁটাইয়ের কাজ বাগানের গাছের মতোই একই নিয়মে করতে হবে।   আন্তঃপরিচর্যা রোপণ করার পর পরিচর্যা সমস্ত বাগানকে সারা বছর আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। খরা হলে প্রয়োজন মত সেচ দিতে হবে। যদি সাথী ফসল চাষ করেন তাহলে তা পোকামাকড়মুক্ত রাখতে হবে। সার প্রয়োগের সময়, গাছটির ডাল পালা যতটুকু পর্যন্ত বিস্তৃত, ততটুকু জায়গার মাটি হালকাভাবে কুপিয়ে, সার মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। গাছের গোড়া থেকে কমপক্ষে ২ ফুটের মধ্যে কোন জায়গায় গভীরভাবে কোপানো যাবে না, কেননা তাহলে বড় বড় শেকড় কেটে গিয়ে গাছের ক্ষতি হতে পারে। বাগান পরিচর্যা ক্যালেন্ডার (রোপণ পরবর্তী ১ম বছর) সময় কার্যক্রম মার্চ-১ম সপ্তাহ (ফল পাড়ার পর) আগাছা পরিষ্কার, বাগান কোপানো, গাছ প্রতি ৫০০ গ্রাম জিপসাম সার ও সেচ প্রয়োগ। মার্চ-৩য় সপ্তাহ গাছ প্রতি ২০ কেজি গোবর সার সেই সাথে ১০টি সিলভামিক্স ফোর্ট ট্যাবলেট সার অথবা ২০ কেজি গোবর সারের সাথে টিএসপি ১৫০ গ্রাম, ইউরিয়া ৩০০ গ্রাম ও পটাশ ৫০ গ্রাম ও সেচ প্রয়োগ। মার্চ-৪র্থ সপ্তাহ গাছ ছাঁটাই ও সেচ প্রয়োগ। মার্চ-৪র্থ সপ্তাহ আগাছা পরিষ্কার, জমি হালকা ভাবে কোপানো, গাছ প্রতি ১০টি সিলভামিক্স ট্যাবলেট সার অথবা টিএসপি ২৫০ গ্রাম, ইউরিয়া ১৫০ গ্রাম ও পটাশ ৫০ গ্রাম ও সেচ প্রয়োগ। বি: দ্র: রোপণ পরবর্তী ২য়, ৩য় ও ৪র্থ বছরে চার্টে উল্লেখিত সারের পরিমাণের যথাক্রমে ২ গুণ, ৩ গুণ ও ৪ গুণ পরিমাণ সার প্রয়োগ করতে হবে। • পৌষ ও মাঘ মাসে কুল তোলা শেষ হয়ে গেলে পুরো গাছ ছাঁটাই করে দিতে হবে। শুধু মূল কাণ্ড থাকবে ২.৫০ থেকে ৩ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত। • অঙ্গ ছাঁটাইয়ের পর জমি চাষ দেওয়া যেতে পারে। • প্রতি গাছে আলাদা আলাদাভাবে পরিমাণ মতো সার দিতে হবে। তারপর পুরো জমিতে সেচের ব্যবস্হা করতে হবে। সেচ ব্যবস্হা • প্রথম যখন গর্তে চারা লাগানো হবে তখনই সেচ দিতে হবে। • এরপর আর সেচ দিতে হবে না, কারণ তখন বর্ষাকাল চলে আসবে। • তারপর গাছের অঙ্গ ছাঁটাইয়ের পর আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে ১ থেকে ২টি সেচ দিতে হবে। ডালছাঁটাই আপেল কুল গাছের বৃদ্ধি ও পরিমিত ফল ধরনের জন্য ডাল ছাঁটাই একটি জরুরী কাজ। ঠিকমতো ছাঁটাই না হলে বাগান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কলম মাটিতে লাগানোর পর একটি সতেজ ও বাড়ন্ত ডালকে উপরের দিকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনমতো সতেজ ডাল রেখে বাকিগুলো কেটে দিতে হবে। এ কাজে কাচি ব্যবহার করতে হবে ও কাঠি দিয়ে মূল গাছকে খাড়া রাখতে হবে। গাছ কাটতে হবে সমান করে, যাতে মূল গাছের কোন বাকল বা ছাল না উঠে এবং মূল গাছের যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেদিকে খুব সতর্কভাবে খেয়াল রাখতে হবে। কাটা অংশটি কাঁচা গোবর দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এরপর কাণ্ডটিতে প্রচুর নতুন কুশি জন্ম নিবে। ফলে উপরের ২ ফুট অংশের নতুন গজানো শাখা প্রশাখায় গাছটি ছাতার মতো আকার নিবে এবং এক পর্যায়ে একটি ঝাকড়া গাছ হবে। প্রতি বছর মার্চে গাছ ছাঁটাই করতে হবে। বড় ডাল সাবধানে করাত দিয়ে কাটতে হবে। কুল গাছে সব সময় নতুন গজানো শাখায় মুকুল আসে। এজন্য নিয়মিত ছাঁটাইয়ের ফলে গাছে বেশি পরিমাণ নতুন শাখা-প্রশাখা গজাবে ও সেই সাথে বেশি পরিমাণ ফল ধরবে।   পোকামাকড় ও রোগবালাই প্রয়োগের সময় বালাইনাশক প্রয়োগের হার ১. গাছে মুকুল আসার পর কিন্তু ফুল ফোটার পূর্বে প্রতি লিটার পানিতে টাফগার ২ সি সি ও ব্যাভিষ্টিন ১ গ্রাম মিশিয়ে সমস্ত গাছে একবার স্প্রে করতে হবে। ২. স্প্রে করার ১ সপ্তাহ পর ৫ সি সি পরিমাণ ভেজিম্যাক্স নামক তরল খাদ্যটি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে সমস্ত গাছে একবার স্প্রে করতে হবে। ৩. ফল মটর দানা সমান হলে একই নিয়মে টাফগার ও ব্যাভিষ্টিন একবার প্রয়োগ করতে হবে এবং এর এক সপ্তাহ পর ভেজিম্যাক্স প্রয়োগ করতে হবে। ৪. ফল মার্বেলের এর মতো হলে টিল্ট নামক ছত্রাকনাশকটি একবার প্রয়োগ করতে হবে। ৫. ফল সংগ্রহের সময় ছত্রাকের আক্রমণ বেশি দেখা দিলে টিল্ট ১০ দিন পর পর ২ বার স্প্রে করতে হবে। সতর্কতা: কড়া রৌদ্রে কীটনাশক বা তরল খাদ্য স্প্রে করা যাবে না। কীটনাশক সবসময় মেঘ মুক্ত দিনে বিকাল ৩ টার পর স্প্রে করলে মৌমাছি কীটনাশক দ্বারা কম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কীটনাশক স্প্রে করার সময় সমস্ত গাছ এমনকি কান্ড পর্যন্ত ভিজিয়ে দিতে হবে। ফলন্ত গাছে পোকামাকড় দমন করার ক্ষেত্রে, নিম তেল একটি উপযোগী প্রতিশেধক হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। ফসল সংগ্রহ/ফলন/মোড়কীকরণ/ফসল সংগ্রহের পর করণীয় ফসল সংগ্রহ উপযোগী বৈশিষ্ট্য সংগ্রহের সময় যখন ফলের সবুজ রং থাকবে না এবং ফলটি হালকা হলুদ রং ধারণ করে। চারা রোপণের ৮ মাসের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যায়। ফলন সাধারণত: একটি পূর্ণবয়স্ক আপেল কুল গাছ থেকে বছরে ৮০ কেজি ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রথম বছরে কম ফল ধরবে। তারপর প্রতিবছরই ফলের পরিমাণ বাড়বে। প্রথম বছরে গাছপ্রতি ৫ থেকে ৭ কেজি, দ্বিতীয় বছরে ১০ থেকে ১৫ কেজি, তৃতীয় বছরে ৩০ থেকে ৬০ কেজি ফলন দিবে। মোড়কীকরণ • নেটের জাল দিয়ে • চটের ব্যাগ দিয়ে • কাগজের কার্টন দিয়ে ফসল সংগ্রহের পর করণীয় • অঙ্গ ছাঁটাই করা; • জমি পুনরায় চাষ দিতে হবে; • জমিতে পুনরায় পূর্বে উল্লেখিত পরিমাণে গোবর সার/ডিএপি/খৈল গাছের গোড়ায় রিং করে ১৮ ইঞ্চি দূরত্বে মূল গাছ থেকে প্রয়োগ করতে হবে; • পানি সেচ দিতে হবে; • সাথী ফসল হিসাবে মুগকলাই চাষ করা যাবে। সংরক্ষণ পদ্ধতি/বংশ বিস্তার/বিকল্প ব্যবহার/অধিক ফলনের জন্য পরামর্শ সংরক্ষণ পদ্ধতি সঙ্গে সঙ্গে বাজারজাত করা ভালো। তবে ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত রাখা যাবে। বংশ বিস্তার অন্যান্য কুলের মতো আপেল কুলেরও দু’ভাবে বংশবিস্তার করা যায়। সরাসরি বীজ থেকে অথবা কলম তৈরির মাধ্যমে। বীজ থেকে বংশবিস্তার করলে মাতৃগুণ ঠিক থাকে না বলে কলম তৈরির মাধ্যমেই বংশবিস্তার ভালো কারণ এতে বংশগত গুণাগুণ ঠিক থাকে। বাংলাদেশের জন্য মধ্যবশাখ থেকে জ্যষ্ঠ মাস পুরো সময় হলো কলম করার জন্য উপযুক্ত সময়। নীচের পদ্ধতিরগুলোর মাধ্যমে আপেল কুলের কলম তৈরি করা যায়। ১. T-বাডিং (বর্ম চোখ কলম পদ্ধতি) এই পদ্ধতির জন্য ছাঁটাই করা চারা গাছের অথবা বয়স্ক গাছের নতুন শাখায় ইংরেজি T-এর মত করে কাটা হয়। তারপর উন্নত জাতের আপেল কুলের নতুন শাখা থেকে কুঁড়ি সংগ্রহ করে তা ঐ কাটা অংশে লাগিয়ে পলিথিন ফিতা দিয়ে বেঁধে দিতে হয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে কুঁড়ি থেকে শাখা বের হতে শুরু করে। তখন গাছের অন্যান্য শাখা কেটে ফেলতে হয় এবং নতুন শাখাটি ধীরে ধীরে আপেল কুলে পরিণত হয়। "T" বাডিং ২. প্যাচ বাডিং (তালি চোখ কলম পদ্ধতি) এই পদ্ধতিতে আপেল কুলের চারা গাছে নতুন শাখা গজালে তা থেকে বর্গাকারে বাকল তুলে ফেলতে হবে। তারপর সেই স্হানে উন্নত জাতের আপেল কুলের একটি কুঁড়ি বাকলসহ লাগিয়ে দিয়ে পলিথিন ফিতা দিয়ে বেঁধে দিতে হয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে কুঁড়িটি বড় হয়ে শাখায় পরিণত হলে গাছের অন্যান্য শাখা কেটে ফেলতে হয় এবং নতুন শাখাটি ধীরে ধীরে আপেল কুলে পরিণত হয়। প্যাচ বাডিং ৩. রিং বাডিং (চক্র চোখ কলম পদ্ধতি) এই পদ্ধতিতে আপেল কুলের চারা গাছে নতুন শাখা গজালে মাথা কেটে উপরের দিকে প্রায় ১ ইঞ্চি পরিমাণ বাকল গোল করে রিং-এর মত করে উঠিয়ে ফেলতে হবে। তারপর বাকল উঠানো জায়গাটিতে উন্নত জাতের আপেল কুলের শাখা থেকে একই মাপের কুঁড়ি সহ বাকল গোল করে কেটে লাগিয়ে দিতে হবে। দুই সপ্তাহের মধ্যে রিং থেকে নতুন শাখা গজাবে। তখন গাছের অন্যান্য শাখা কেটে ফেলতে হবে এবং নতুন শাখাটি ধীরে ধীরে আপেল কুলে পরিণত হয়। রিং বাডিং বিকল্প ব্যবহার আচার, চাটনি, মোরব্বা, জেলী অধিক ফলনের জন্য পরামর্শ • পাটের সুতলি দিয়ে গাছ বাধা যাবে না। • বর্ষার সময় আগাছা দূর করতে হবে। • বাগান পরিচর্যা করতে হবে। আয়-ব্যয় হিসাব প্রতি একরে ৫০০ টি গাছের জন্য আপেল কলের ১ম বছরে আয়-ব্যয় হিসাব: ক্রমিক নম্বর খরচের খাত পরিমাণ টাকার পরিমাণ ১ জমি লিজ ১ বছর ১২০০০.০০ ২ শ্রমিক খরচ - - ক. জমি তৈরী ১০ জন ১০০০.০০ খ. চারা লাগানো ও আগাছা পরিষ্কার ১৩ জন ১৩০০.০০ গ. ফসল সংগ্রহের সময় ২০ জন ২০০০.০০ ঘ. গাছ ছাটাইকরণ ২০ জন ২০০০.০০ ঙ. অন্যান্য খাতে ৫ জন ৫০০.০০ ৩ বেড়া তৈরি - ৪০০০০.০০ ৪ সার (৫০টাকা/গাছ) ৫০টাকা×৫০০টি গাছ ২৫০০০.০০ ৫ কীটনাশক - ৩০০০.০০ ৬ চারা ক্রয় ৫০০টি চারা × ১০০ টাকা ৫০০০০.০০ ৭ খুটি খরচ - ৩০০০.০০ ৮ প্লাষ্টিক রশি ৫ কেজি, ৬৫ টাকা হারে ৩৫০.০০ ৯ চারা পরিবহন খরচ - ৩০০০.০০ ১০ ফসল সংগ্রহের খাচা ৬০ টি, ২৫ টাকা হারে ১৫০০.০০ ১১ চট/সুতলি - ২০০০.০০ ১২ স্প্রে মেশিন ১টি ১৫০০.০০ ১৩ শ্যালো টিউবওয়েল ১টি ২০০০০.০০ ১৪ পাহারাদার ১ জন (৩ মাসের জন্য) ৬০০০.০০ ১৫ বিবিধ খরচ - ৫০০০.০০ ১৬ কেয়ার টেকার খরচ ১ জন (প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে) ১৮০০০.০০ ১৭ মোট খরচ - ১৮৫১৫০.০০ ১৮ মোট খরচের উপর সুদ ১৭% হারে ৩১৪৭৫.৫০ ১৯ সর্বমোট খরচ - ২১৬৬২৫.৫০ ২০ ফলন থেকে আয় ৫০০ টি গাছ×৫ কেজি(প্রতিটি গাছ)×৫০ টাকা/কেজি বিক্রয় ১২৫০০০.০০ ২১ ১ম বছরে ক্ষতির পরিমাণ (২১৬৬২৫৫.০০-১২৫০০০.০০) ৯১৬২৫.৫০ ২২ ১ম বছরে প্রকৃত ক্ষতি ৯১৬২৫.৫০-৩১৪৭৫.৫০ ৬০১৫০.০০ ২য় বছরে আয়-ব্যয়ঃ ক্রমিক নম্বর খরচের খাত পরিমাণ টাকার পারমাণ ১ জমি লিজ ১ বছর ১২০০০.০০ ২ শ্রমিক খরচ - - ক. জমি তৈরী ১০ জন ১০০০.০০ খ. আগাছা পরিষ্কার ১৩ জন ১৩০০.০০ গ. ফসল সংগ্রহের সময় ২০ জন ২০০০.০০ ঘ. গাছ ছাটাইকরণ ২০ জন ২০০০.০০ ঙ. অন্যান্য খাতে ৫ জন ৫০০.০০ ৩ বেড়া মেরামত - ৫০০০.০০ ৪ সার (৫০টাকা/গাছ) ৫০টাকা×৫০০টি গাছ ২৫০০০.০০ ৫ কীটনাশক - ৩০০০.০০ ৬ চারা পরিবহন খরচ - ৩০০০.০০ ৭ ফসল সংগ্রহের খাচা ৬০ টি, ২৫ টাকা হারে ১৫০০.০০ ৮ চট/সুতলি - ২০০০.০০ ৯ পাহারাদার ১ জন (৩ মাসের জন্য) ৬০০০.০০ ১০ বিবিধ খরচ - ৫০০০.০০ ১১ কেয়ার টেকার খরচ ১ জন (প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে) ১৮০০০.০০ ১২ মোট খরচ - ৭৫৩০০.০০ ১৩ ফলন থেকে আয় ৫০০ টি গাছ× ২০কেজি (প্রতিটি গাছ)×৫০ টাকা/কেজি বিক্রয় ৫০০০০০.০০ ১৪ নীট আয় (৫০০০০০.০০- ৭৫৩০০.০০) ৪২৪৭০০.০০ ৩য় বছরের আয়-ব্যয়ঃ ক্রমিক নম্বর খাতসমূহ পরিমাণ টাকা ১ ব্যয় (উপরের টেবিলের ১ থেকে ১৬ পর্যন্ত মোট খরচ) - ৭৫৩০০.০০ ২ আয় ৫০০ টি গাছ× ৪০ কেজি (প্রতিটি গাছ)×৫০ টাকা/কেজি বিক্রয় ১০০০০০০.০০ ৩ নীট আয় ১০০০০০০.০০-৭৫৩০০.০০ ৯২৪৭০০.০০ ৪র্থ বছরের আয়ঃ ৪র্থ বছরে লেবার খরচ ৫০০০.০০ টাকা বাড়িয়ে দিতে হবে। এর সাথে উৎপাদনও বাড়িয়ে দিতে হবে। তথ্যসূত্র ১. বাউকুল ও আপেল কুলের চাষ, ক্ষেতখামার পাতা, দৈনিক প্রথম আলো, ২৮ জুলাই, ২০০৭। ২. সম্ভাবনাময় ফল- আপেল কুল, কৃষিকথা, ৬৭তম বর্ষ : ১ম সংখ্যা, বশাখ-১৪১৪, এপ্রিল-মে ২০০৭। ৩. আলোড়ন সৃষ্টিকারী ফল-বাউকুল/আপেলকুল, পঞ্চগড় নার্সারী, ১ এপ্রিল, ২০০৭। ৪. আপেল কুল: প্রথম বছরেই হাজার টাকার ফল, ক্ষেতখামার পাতা, দৈনিক প্রথম আলো, ২৭ ডিসেম্বর, ২০০৬।
Saturday, 25 September 2010 | 506 hits
কৃষি বিষয়ক তথ্য/ফল জাতীয় ফসল
পরিচিতি লেবু জাতীয় ফলের মধ্যে কমলা সবচেয়ে জনপ্রিয়, সুস্বাদু, সুগন্ধি এবং ভিটামিন “সি”সমৃদ্ধ ফল। বর্তমানে কমলা অনেক দেশেই চাষ হয়। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পায়। কমলার ইংরেজী নাম Orange এবং বৈজ্ঞানিক নাম Citrus reticulata. পুষ্টিমাণ প্রতি ১০০ গ্রাম কমলালেবুতে থাকে- উপাদান পরিমাণ আমিষ ০.৭ গ্রাম শর্করা ৯.৭ গ্রাম চর্বি ০.১ গ্রাম খনিজ লবন ০.১ গ্রাম ভিটামিন বি-১ ০.০৪ গ্রাম ভিটামিন বি-২ ০.০১ গ্রাম ক্যালসিয়াম ২২ গ্রাম লৌহ ০.৩ গ্রাম খাদ্য শক্তি ৪৩ কিলোক্যালরী এছাড়া কমলা রোগীর পথ্য, রুচি বর্ধনকারী হিসাবে জনপ্রিয়। চাষপ্রধান এলাকা জেলা (১০টি) উপজেলা (৪০টি) ১। চট্টগ্রাম ১) ফটিকছড়ি, ২) হাটহাজারী, ৩) সীতাকুন্ড, ৪) মীরের সরাই, ৫) রাংগুনিয়া। ২। কক্সবাজার ১) টেকনাফ, ২) রামু, ৩) চকরিয়া, ৪) উথিয়া, ৫) কক্সবাজার সদর। ৩। রাঙ্গামাটি ১) রাঙ্গামাটি সদর, ২) বাঘাইছড়ি, ৩) বিলাইছড়ি, ৪) নানিয়ার চর, ৫) কাপ্তাই। ৪। বান্দরবান ১) বান্দরবান সদর, ২) রুমা, ৩) থানচি, ৪) লামা, ৫) আলি কদম, ৬) রোয়াংছড়ি। ৫। খাগড়াছড়ি ১) মহালছড়ি, ২) মাটিরাঙ্গা, ৩) রামগড়, ৪) দীঘিনালা। ৬। পঞ্চগড় ১) পঞ্চগড় সদর, ২) আটুয়ারী, ৩) তেতুলিয়া, ৪) বোদা। ৭। ঠাকুরগাঁও ১) ঠাকুরগাঁও সদর, ২) রানী সংকাইল। ৮। টাঙ্গাইল ১) মধুপুর, ২) ঘাটাইল, ৩) সখিপুর। ৯। গাজীপুর ১) গাজীপুর সদর, ২) কাপাসিয়া, ৩) শ্রীপুর, ৪) কালিয়াকর। ১০। ময়মনসিংহ ১) ভালুকা, ২) হালুয়াঘাট। ১১। সিলেট ১) বিয়ানীবাজার, ২) জৈন্তা, ৩) গোয়ানঘাট। ১২। মৌলভীবাজার ১) কুলাউরা, ২) শ্রীমঙ্গল, ৩) বড়লেখা। ১৩। হবিগঞ্জ ১) বাহুবল, ২)চুনারুঘাট, ৩) মাধবপুর। ১৪। সুনামগঞ্জ ১) ছাতক, ২) সুনামগঞ্জ, ৩) দুয়ারাবাজার।   জাত জাত উল্লেখযোগ্য জাতের নাম বৈশিষ্ঠ্য মেন্ডারিন (Mandarin খাসিয়া, বারি কমলা-১, নাগপুরী দার্জিলিং ইত্যাদি। খোসা পুরু কোষের সঙ্গে হালকাভাবে লাগানো থাকে। এককোষ থেকে অন্য কোষ সহজে ছাড়ান যায়। মাল্টা (Malta) মাল্টা ব্লাডরেড, পাইন আপেল, সাগুদি, চিনি, সুইট অরেঞ্জ ইত্যাদি। আকারে মেন্ডারিন থেকে বড়। গোলাকৃতি বা ডিম্বাকৃতি। খোসা পুরু এবং ফলের সাথে শক্তভাবে লেগে থাকে। গাছ ঝোপাকৃতি। খোসা থেকে ফলের কোষ ছাড়ান যায় না। গাছ বেশ জোড়ালো হয়। ফলন অনেক বেশি। বাংলাদেশে সাধারণত: খাসিয়া মেন্ডারিন জাতের কমলালেবুর চাষ হয়। বারি কমলা-১ উচ্চ ফলনশীল হওয়ায় এ জাতের চাষ ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। কোথায় চাষ করবো? মাটি অম্লযুক্ত এবং পানি দাঁড়ায় না এমন পাহাড়ি অঞ্চলে কমলার চাষ করা উচিত। এতে কমলা স্বাদে ও গন্ধে উন্নতমানের হয়। চাষের মাটি ও পরিবেশ/জমি তৈরি চাষের মাটি ও পরিবেশ জলবায়ু বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত তাপমাত্রা মাটির প্রকৃতি ঠান্ডা আবহাওয়ায় ভালো জন্মে ১৫০-৫০০ সে. মি. ৫৫০ ফারেনহাইট এর নীচে তাপমাত্রা আসলে গাছের বাড়তি কমে যায় এবং ফলের মান খারাপ হয়। সুনিষ্কাশিত দো-আঁশ, বেলে দোআঁশ, পাহাড়ী উঁচু মাটি কমলা চাষের জন্য বেশি উপযোগী।   জমি তৈরী যে কোন জমির জঙ্গল বা আগাছা পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। আগাছা শুকালে তা পুড়াতে হবে। যদি মাটির অম্লমাত্রা  ৫.৫ এর নীচে থাকে তবে গর্ত প্রতি ২০০-৩০০ গ্রাম চুন মাটির সাথে মিশিয়ে গর্তে দিতে হবে। গর্ত তৈরির ১৫-২০ দিন পর চারা রোপণ করতে হবে।   বীজের উৎস নভেম্বর ও ডিসেম্বর র মাসে সুস্হ ও সবল গাছ থেকে ভালো ফল সংগ্রহ করে বীজ বের করতে হয়। বীজ রোগে ভালোভাবে শুকিয়ে বীজতলায় ফেলতে হয়। সম্ভবপর হলে ভালোজাতের কমলা বিদেশ থেকে সংগ্রহ করতে হবে। চারা বা কলম তৈরি ও নির্বাচন/রোপণ পদ্ধতি চারা বা কলম তৈরি ও নির্বাচন ১. বীজ থেকে সরাসরি চারা তৈরি করা যায়। ২. চোখ কলম ও পাশ্বকলমের মাধ্যমেও কমলার কলম তৈরি করা যায়। ৩. সাধারণত: ১০-১২ মাস বয়সের বাতাবী লেবুর চারা বাডিং ও গ্রাফটিংয়ের জন্য আদিজোড় হিসাবে ব্যবহার করা হয়। ৪. রোপণের জন্য সোজা ও ভালো বৃদ্ধি সম্পন্ন্‌ চারা/কলম নির্বাচন করতে হয়।   গর্ত তৈরি বৃহত্তর সিলেট জেলায় কমলা ও আনারস উন্নয়নসহ সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প শুরু হওয়ার আগে চাষীরা প্রতি একরে  ৩১৫টি গর্ত করতেন কিন্তু বর্তমানে প্রতি একরে ২১৫টি গর্ত করার জন্য কমলা চাষীদেরকে প্রকল্প থেকে সুপারিশ করা হয়ে থাকে। গর্তের দূরত্ব ১০×১০ ফুট গর্তের আকার ২×২×২ ফুট. গর্তে সার প্রয়োগ কম্পোস্ট বা গোবর ১৫ কেজি, ইউরিয়া ২৫০ গ্রাম, টিএসপি ২৫০ গ্রাম ও এমওপি ২০০ গ্রাম সার এবং চুন ২৫০ গ্রাম মিশিয়ে গর্ত ভরাট করে রাখতে হবে। মূলে হরমোন প্রয়োগ প্রতি গর্তে মূল বৃদ্ধিকারক হরমোন রোটন থ্রিজি ১০ গ্রাম করে প্রয়োগ করতে হবে।   রোপণ পদ্ধতি জমির প্রকার ভেদে- ১. সমতল জমিতে বর্গাকার বা আয়তাকার এবং ২. পাহাড়ী জমিতে কন্টুর পদ্ধতিতে কমলার চারা/কলম রোপণ করতে হবে।   চারা/কলম রোপণ ও সময় রোপণের উপযুক্ত সময় মধ্য-বৈশাখ থেকে মধ্য-ভাদ্র (মে হতে আগষ্ট) মাস । চারার বয়স ১-৩ বছর হতে হবে। চারা লাগানোর আগে ১০-১৫ দিন আগে গর্তের মাটি ভালভাবে কোদাল দিয়ে উলটপালট করে নিতে হবে। চারা লাগানোর সময় চারা মাটির বলসহ গর্তে লাগাতে হবে। চারা লাগানোর পর চারা লাগানোর পর গর্ত ভরাট করে দিতে হবে এবং খুঁটি দিয়ে চারা বেঁধে দিতে হবে।   আন্তঃপরিচর্যা সেচ খরায় এবং শীত বা রবি মৌসুমে মাঝে মাঝে গাছের গোড়ায় সেচ দিতে হবে। ভালো ফলনের জন্য জমির চাহিদা অনুযায়ী ৩/৫ বার সেচ দেয়া যেতে পারে। তবে বর্ষাকালে গাছের গোড়ায় যাতে বৃষ্টির পানি না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শুকনা মৌসুমে ১৫-২০ দিন পর  পর হালকা সেচ দিতে পারলে বেশি ফলন পাওয়া যায়। সমতল বাগানে ভাসানো পদ্ধতিতে আর উঁচু নীচু জমিতে স্প্রে পদ্ধতিতে সেচ দেওয়াই উত্তম। সেচের পর গাছের গোড়ায় খড় বা কচুরিপানা দিলে ভালো হয়।   সার প্রয়োগ ভালো ফলন পেতে হলে প্রতি বছর কমলা গাছে সার প্রয়োগ করা দরকার। বসন্তে মধ্য-মাঘ থেকে মধ্য-চত্র (ফেব্রুয়ারী- মার্চ), বষার পুর্বে মধ্য চৈত্র থেকে মধ্য-জষ্ঠ্য (এপ্রিল থেকে মে ) এবং বর্ষার পূর্বে মধ্য ভাদ্র থেকে মধ্য-কার্তিক (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) মাসে তিন কিস্তিতে সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে গাছ প্রতি সারের পরিমাণ নিম্নরূপ হবে- গাছের বয়স (বছর) গোবর/কম্পোষ্ট (কেজি) ইউরিয়া (গ্রাম) টিএসপি (গ্রাম) এমপি (গ্রাম) ৬ মাস - ১০০ - - ১-২ বছর ১৫ ২০০ ১৫০ ১৫০ ২-৩ বছর ১৮ ৩০০-৩৫০ ২০০-২৫০ ২০০-২৫০ ৪-৫ বছর ২৫ ৩৫০-৫০০ ৩০০-৪০০ ৩০০-৪০০ ৬-৭ বছর ৩৫ ৫৫০-৬৫০ ৪০০-৫০০ ৪৫০-৫০০ ৮-৯ বছর ৫০ ৭০০-৮০০ ৫৫০-৮৫০ ৫৫০-৭০০ ১০ তদুর্ধ ৮০ ১০০০-১৫০০ ৮৫০-১০০০ ৭৫০-১০০০ জমির উর্বরতাভেদে সার ও এর পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। আগাছা দমন আগাছা কমলা গাছের বেশ ক্ষতি। গাছের গোড়ায় যাতে আগাছা জম্মাতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গাছের উপরে পরগাছা বা লতাজাতীয় আগাছা থাকলে তা দূর করতে হবে। এছাড়া আগাছা দমন করার জন্য গ্লাইফোসেট এবং রাউন্ড আপ অনুমোদিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। ছাঁটাই চারা অবস্হায় কমলা গাছের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। গোড়া থেকে অতিরিক্ত জম্মানো মাথা গজানোর সাথে সাথে কেটে ফেলতে হবে। নীচের দিকে ছোট ছোট শাখা ছেটে ভূমি থেকে অন্তত: ৪৫ সেমি উপর হতে কান্ডের উৎপাদনশীল শাখা বাড়তে দিতে হবে। মরা ও রোগাক্রান্ত ডাল মাঝে মাঝে ছেটে দিতে হবে এবং কাটা অংশে কুপ্রাভিট ৫০ ডব্লিউ পি পেষ্ট আকারে লাগাতে হবে। গাছের গঠন ছোট থেকেই সুন্দর ও শক্ত করে তুলতে হবে। সাথী ফসল কমলা গাছ রোপনে ৫/৭ বৎসর পর্যন্ত সাথী ফসলের চাষ করা যায়। শাক সবজি, ডাল জাতীয়, তেল জাতীয় ফসলের আবাদ করে অনায়াসে বাগান থেকে অতিরিক্ত লাভ ঘরে তোলা যায়। এতে মূল ফসল তথা কমলার ফলনে কোন ক্ষতি হয় না। বরং নিয়মিত পরিচর্যার কারনে কমলা গাছে বালাইয়ের আক্রমন কম হয়। কাঠবিড়ালী ও বাদুর আক্রমণ কাঠবিড়ালী কাঁচা ও পাকা এবং বাদুর পাকা অবস্হায় কমলার অনেক ক্ষতিসাধন করে। গবেষণা লব্ধ তেমন কোন প্রতিকার ব্যবস্হা এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে আসেনি। রাতেই এরা বেশি ক্ষতি করে। রাতে পাহারা দিয়ে/রাতে টিনের/পিতলের বাক্সে ঘন্টা বাজিয়ে/কাকতাড়ুয়া ও মানুষের ডামি দিয়ে/কাঠবিড়ালী মেরে বাগানে ঝুলিয়ে রেখে কমলা রক্ষা করা যায়। তবে বাগানীর বা খামারীর সচেতনতা সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এ সমস্যার কার্যকরী সমাধান করতে পারে। ফুল আসা ও ফল ধারণ বীজ থেকে চারা উৎপাদন করে রোপণ করলে রোপণের ৩-৫ বৎসর পরে গাছে ফুল আসে। কলমের গাছে ১ বৎসর পরই ফুল আসে ফল ধরে। প্রথম দিকে ফলের সংখ্যা কম থাকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফলের সংখ্যা এবং ফলের মান বাড়তে থাকে । কমলা গাছ ৫০ বৎসরেরও বেশি সময় বাঁচে। পোকামাকড় ও রোগবালাই পোকামাকড় পোকার নাম লক্ষণ প্রতিকার লেদা পোকা পাতা খেয়ে নষ্ট করে সেভিন ১০ লিটার পানিতে ১৫ গ্রাম, ম্যালথিয়ন ১০ লিটার পানিতে ৩০ মি.লি. এবং মর্টার ৪৮ ইসি ১০ লিটার পানিতে ১০ মি.লি. হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। পাতা ছিদ্রকারী পোকা সাদা পোকা কচি পাতার নীচে আঁকাবাকা দাগের সূষ্টি করে। আক্রমণের কারণে পাতা কুঁকড়ে যায়। এ পোকা দমনে স্টার্টার ৪০ ইসি, টাবগড় ৪০ ইসি এবং ডাইমেথয়েড ৪০ ইসি ১০ লিটার পানিতে ২০ মি.লি. হারে মিশিয়ে ভালভাবে পাতা ভিজিয়ে দিলে উপকার পাওয়া যায। বাকল/ছাল ছিদ্রকারী পোকা পোকা গাছের বাকলে ঢুকে খেতে থাকে এবং আক্রান্ত বাকল শুকিয়ে ডাল বা কান্ড মারা যায়। এ পোকা দমন করতে ১০ মি.লি. (চা -২ চামচ) রিপকর্ড ১০ইসি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ভালোভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে। এছাড়াও বুস্টার ১০ ইসি অথবা মর্টার ৪৮ ইসি ১০ লিটার পানিতে ১০ মি.লি. হারে মিশিয়ে ভালোভাবে ছিটিয়ে দিলে উপকার পাওয়া যাবে। কান্ড ছিদ্রকারী পোকা পোকা গাছের কান্ড যা ডাল ছিদ্র করে ভিতরে খেয়ে গাছ দূর্বল করে ফেলে। আক্রমণ তীব্র হলে ডাল বা কান্ড শুকিয়ে মারা যায়। কান্ড ও ভেঙ্গে যায়। বাকল বা কান্ড ছিদ্রকারী (বার্ক বোরার) এর মত একই নিয়মে কান্ড ছিদ্রকারী পোকা (ট্রাঙ্ক বোরার) দমন করা যায়। কমলা গান্ধি ফলের গায়ে ছিদ্র করে রস চুষে খায়। ভাদ্র-কার্তিক মাসে ফল যখন পুরু রসালো হয় তখন গান্ধি পোকার আক্রমণ দেখা যায়। এতে ছিদ্র স্হান কয়েকদিন পর হলদে হয়ে ফল ঝরে যায়। ম্যালাথিয়ন গ্রুপের যে কোন কীটনাশক ২৫ মি.লি./১০ লি. পানিতে মিশিয়ে আক্রমণের আগে প্রয়োগ করলে আক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়। ফলের মাছি পোকা স্ত্রী পোকা ছোট ফলে হুল ঢুকিয়ে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে কীড়া ফলের ভিতর খেয়ে ফল ছিদ্র করে বেরিয়ে আসে। এতে ফল নষ্ট হয়ে ঝরে যায়। এ পোকা দমনে ম্যালাথিয়ন গ্রুপের যে কোন ২৫ মি.লি./১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ছিটিয়ে দিলে পোকা দমন হয়‌। ক্ষুদে মাকড় গাছের কচি পাতার রস খেয়ে গাছকে দুর্বল করে ফেলে। পাতা কুঁকড়ে যায়। ফলনে ব্যাঘাত ঘটায়। মাকড় দমনের জন্য ১০ লিটার পানিতে ৫ চা চামচ নিউরন ৫০ ইসি মিশিয়ে পুরো গাছে স্প্রে করলে উপকার পাওয়া যায়। এ সকল পোকা মাকড় ছাড়াও প্রজাপতি, সুরঙ্গ পোকা, জাব পোকা, গান্ধি পোকাও কমলার গাছ বা ফল আক্রমণ করে। সময়মত প্রতিরোধ ব্যবস্হা নিলে ক্ষতির পরিমাণ কমানো যায়। রোগবালাই রোগের নাম লক্ষণ প্রতিকার গ্রীনিং এ রোগে আক্রান্ত হলে গাছের পাতা হলদে হয়ে যায়। পাতার শিরা দুর্বল, পত্রফলক পাতলা, পাতা কিছুটা কুঁকড়ানো, পাতা ছোট হওয়া, পাতার সংখ্যা কমে যায়। গাছ উপর থেকে নীচ পর্যন্ত মরতে থাকে, ফল ধারণ ক্ষমতা লোপ পায়। সাইরিড পোকা দ্বারা এ রোগ সংক্রামিত হয়। রোগাক্রান্ত গাছের ফল থেকে বীজ সংগ্রহ করে চারা করলে বা কলম তৈরি করলে নতুন চারায় এ রোগ সংক্রামিত হয়। অ্যাবাটিন ১.৮ ইসি ১০ লিটার পানিতে ১০ মি.লি. হারে বা সবিক্রন ৪২.৫ ইসি ১০ লিটার পানিতে ৪ চা চামচ মিশিয়ে স্প্রে করলে বাহক পোকা দমন করা যায়। তবে এ কাজটা করতে হবে মে-অক্টোবর পর্যন্ত প্রতি মাসে একবার করে। এছাড়া স্টার্টার ৪০ ইসি ১০ লিটার পানিতে ২০ মি.লি. হারে মিশিয়ে স্প্রে করা যায়। ক্যাংকার এ রোগে পাতা, ফল ঝরে যায়। ডালের আগা মরে যায়। আস্তে আস্তে মরা অংশ বাড়তে থাকে পরে পুরো ডাল মরে যায়। ফল ও পাতার ডগায় এ রোগ বেশি দেখা যায়। ঘনঘন বূষ্টি হলে রোগের প্রকোপ বেশি হয়। কুপ্রাভিট ৫০ ডব্লিউপি/ ব্যান্ডাজিন ৫০ ডব্লিউপি/ হিমেক্সিল ৭২ ডব্লিউপি অথবা এন্টিব্লাইট ৭২ ডব্লিউপি ১০ লিটার পানিতে ১৫-২৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া এ রোগটি যথাযথ পুষ্টির অভাবে হয়ে থাকে। এর প্রতিকার হিসেবে চারা রোপণের সময় প্রতি গর্তে লিভরেল জিংক ০.৫ গ্রাম এবং লিভরেল বোরন ১ গ্রাম প্রয়োগ করলে ভালো হয়। গ্যামোসিস রোগ এই রোগের আক্রমণে গাছের গোড়াতে পচন ধরে। গাছের কান্ড বা ডাল বাদামী রং এর হয়ে যায় ও ডালে লম্বা লম্বী ফাটল দেখা দেয় এবং ফাটল থেকে আঠা বের হতে থাকে। কমলা বাগানে পানি নিকাশের সুব্যবস্হা করা ও গাছকে সবসময় সবল ও সতেজ রাখা। মাটি স্যাঁতস্যাঁতে হতে না দেয়া, অতিরিক্ত পানি সেচ না করা। এছাড়া কুপ্রাভিট ৫০ ডব্লিউপি/ ব্যান্ডাজিন ৫০ ডব্লিউপি/ হিমেক্সিল ৭২ ডব্লিউপি অথবা এন্টিব্লাইট ৭২ ডব্লিউপি ১০ লিটার পানিতে ১৫-২৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে গাছের আক্রান্ত স্হানে পেস্ট আকারে প্রয়োগ করতে হবে।   ফসল সংগ্রহ/ফলন/বস্তাবন্দী বা প্যাকেটজাত/ফল সংগ্রহের পর করণীয় ফসল সংগ্রহ ফসল তোলার উপযোগী বৈশিষ্ট্যঃ কিছুটা হলদে রং ধারণ করলে সংগ্রহের উপযোগী সময়ঃ মধ্য কার্তিক - মধ্য পৌষ কতদিন সময় লাগবেঃ ফুল আসার পর ৮-৯ মাস ফলন একর প্রতি ফলন ১০০০-১২০০ কেজি হয়ে থাকে। বারি কমলা-১ জাতে গাছ প্রতি ৩০০-৪০০ টি ফল ধরে। প্রতিটি ফলের ওজন ১৮০-২০০ গ্রাম হয়। বস্তাবন্দী বা প্যাকেটজাত কাগজে জড়িয়ে বা ছিদ্রযুক্ত জালের মোড়কে করে বাজারজাত করলে ফল কম আঘাত প্রাপ্ত হয়। ফল সংগ্রহের পর করণীয় ক. ফলের ক্ষেত্রে ১. ফল পরিপুষ্ট হলে ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় গাছ থেকে পাড়তে হবে। ২. গাছ থেকে ফল পাড়ার পর তা সূর্যের তাপ থেকে দূরে রাখতে হবে। ৩. গাছ থেকে ফল পাড়ার সময় বা পরবর্তীতে ফলে যাতে আঘাত না পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ৪. উপযুক্ত ব্যবস্হাপনায় ফল গুদামজাত করতে হবে। হিমাগারে ফল সংরক্ষণ করলে প্রিকুলিং করে নিতে হবে। ৫. পরিবহনের সময় বা গুদামে উচ্চ আপেক্ষিক আর্দ্রতার ব্যবস্হা নিতে হবে। ৬. রোগ বা পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রতিহত বা উপযুক্ত দমন ব্যবস্হা নিতে হবে। ৭. উপযুক্ত প্যাকিং ও পরিবহন ব্যবস্হা গ্রহণ করতে হবে। ৮. ফল সংগ্রহ পরবর্তী সব ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ৯. ফল উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির ব্যবস্হা করতে হবে। ১০. সংরক্ষণের পর যদি কোন ফলে পচন ধরে তবে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। ১১. ফল বেশি পেকে যাবার আগেই তা বাজারজাত কর হবে। খ. বাগানের ক্ষেত্রে আগামী বা পরবর্তী মৌসুমে ভালো ফলন পাবার জন্য অবশ্যই চলতি ফল সংগ্রহের পর গাছের বাগানের যত্ন নিতে হয়। এর মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছাঁটাইকরণ/সার প্রয়োগ/সেচ ব্যবস্হাপনা/মালচিং/মৌসুমী ডাল বা শিম জাতির ফসলের চাষ/আক্রান্ত অংশ কেটে ফেলা/আক্রান্ত অংশ চেছে আলকাতরা বা সিমেন্টের প্রলেপ দেয়া ইত্যাদি সময়মত যথাযথভাবে করলে হাতেনাতে উপকার পাওয়া যায়। আজকের বিনিয়োগ আগামী দিনের সুফল এ কথার প্রমাণ পাওয়া যাবে। সংরক্ষণ পদ্ধতি/বিকল্প ব্যবহার/দরকারী পরামর্শ সংরক্ষণ পদ্ধতি বীজ সংরক্ষণ নভেম্বর ডিসেম্বর মাসে ভালো ফল সংগ্রহ করে বীজ সংরক্ষণ করতে হবে। কমলার বিকল্প ব্যবহার আমাদের দেশে আপাতত উৎপাদিত কমলার জন্য সরাসরি খাওয়ার পর কিছু করার প্রয়োজন পড়ে না। ভবিষ্যতে যখন বেশি কমলা উৎপাদিত হবে তখন ছোট মাঝারী বড় পরিসরে জ্যাম, জেলী, জুসসহ কমলার খোসা দিয়ে প্রসাধনী, অন্যান্য রুচিময় উপকরন তৈরির প্রকল্প হাতে নেয়া যেতে পারে। এ ব্যাপারে ব্যক্তিগত, দলীয়, সরকারী বা বেসরকারী সংস্হা পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে আসতে পারে। দরকারী পরামর্শ ১. অনুমোদিত জাত ব্যবহার করা। ২. প্রতি বছর নিয়মিত হারে সার প্রয়োগ করা। ৩. শুষ্ক মৌসুমে সেচের ব্যবস্হা করা। ৪. গাছের সময়মত অঙ্গ ছাঁটাই করা। ৫. গাছের রোগবালাই দমন করা। ৬. বাদুড় বা অন্যান্য ক্ষতি থেকে ফলকে রক্ষা করা। আয়-ব্যয় হিসাব একর প্রতি কমলা উৎপাদনের খরচ ও লাভ বিবরণ টাকা চারা ১৮০×৫০ ৯,০০০ সার ও ব্যবস্হাপনা (১ম বছর) ৫,০০০ সার ও ব্যবস্হাপনা (১ম বছর)২য়, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম সার ও ব্যবস্হাপনা (৫০০০×৪) ২০,০০০ কীটনাশক (৫বছর) ২,০০০ শ্রমিক (৫বছর) ৪,০০০ জমির খাজনা/ট্যাক্স ২,০০০ মোট (৫ বছরে) খরচ ৪২,০০০ পরবর্তী ৫ বছর খরচ = ৫,০০০ + ২০,০০০ ২৫,০০০ ১০ বছর পর্যন্ত খরচ ২৫,০০০ ৫ বছর পরঃ একর প্রতি বিক্রয় মূল্য (৬০টি/গাছ=১০,৮০০, ৮ টাকা হারে) =৮৬,৪০০ একর প্রতি খরচ (৫বছর/১ম ফল ধরা পর্যন্ত) =৪২,০০০ একর প্রতি লাভ (৫ বছর পর) =৪৪,৪০০ ১০ বছর পরঃ একর প্রতি বিক্রয় মূল্য (২০০টি/গাছ =৩৬,০০০, ৮ টাকা হারে) =২,৮৮,০০০ একর প্রতি খরচ (১০ বছর পর্যন্ত) =৬৭,০০০ একর প্রতি লাভ (১০ বছর পর) =২,২১,০০০ উপরের উপাত্তসমূহের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রাপ্তির বিবরণ তথ্য প্রদানকারী: কৃষক- মোঃ ফিরোজ আলী, গ্রাম: পশ্চিম কচুরগুল, পো: শিলুয়া বাজার, থানা: জুড়ি, জেলা: মৌলভীবাজার।    এলাকা : মৌলভীবাজার।  তারিখ : ১৭ জুন, ২০০৭। তথসূত্র ১. কমলার চাষ, বৃহত্তর সিলেট জেলায় কমলা ও আনারস উন্নয়নসহ সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ী, ঢাকা, ২০০৩। ২. সেচের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন ম্যানুয়াল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গভীর নলকুপ-২ প্রকল্প, ফার্মগেট, ঢাকা, এপ্রিল ১৯৯২। ৩. ফুল-ফল ও শাক-সবজি (৫ম সংস্করন), ড. কামাল উদ্দিন আহমদ, ১৯৯৫। ৪. সবজি বিজ্ঞান, (দ্বিতীয় সংস্করণ)-মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ নভেম্বর ১৯৯৯। কৃষি প্রযুক্তি হাত বই,বি এ আর আই- ৫. উদ্ভাবিত কৃষি প্রযুক্তির বিবরণী বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট । ২০০৫। ৬. ফল, শাক-সবজী ও মসলা জাতীয় ফসল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, প্রশিক্ষণ অনুবিভাগ, খামারবাড়ী, ঢাকা, ফেব্রুয়ারী ১৯৯৮। ৭. ফলের আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি, উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট, জয়দেবপুর, গাজীপুর, ২০০৫। ৮. কৃষিকথা, বৈশাখ ১৪১৩ সংখ্যা।
Saturday, 25 September 2010 | 855 hits
কৃষি বিষয়ক তথ্য/ফল জাতীয় ফসল
পরিচিতি বাংলাদেশে যে সব ফল উৎপন্ন হয় তার মধ্যে আমের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। আমের নানাবিধ ব্যবহার, স্বাদ-গন্ধ ও পুষ্টিমাণের জন্য এটি একটি আদর্শ ফল হিসেবে পরিচিত। তাই আমকে ফলের রাজা বলা হয়। বর্তমানে আরব আমিরাত, আবুধাবী, দুবাই, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, ওমান, ইটালী, জার্মানী ও যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশ থেকে ফজলি, হিমসাগর এবং ল্যাংড়া জাতের আম রপ্তানী হলেও আরও অনেক দেশে এর রপ্তানীর প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। আমের ইংরেজি নাম Mango এবং বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica. পুষ্টিমাণ খাবারযোগ্য প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে পুষ্টি রয়েছে নিম্নরূপ: উপাদান পরিমাণ জলীয় অংশ ৭৮.৬০ গ্রাম খনিজ ০.৪০ গ্রাম আঁশ ০.৭০ গ্রাম খাদ্যশক্তি ৩৩৭ কিলোক্যালরি আমিষ ১.০০ গ্রাম চর্বি ০.৭০ গ্রাম শর্করা ২০.০০ গ্রাম ক্যালসিয়াম ১৬.০০ মিলিগ্রাম লৌহ ১.৩০ মিলিগ্রাম ক্যারোটিন ৮৩০০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন-বি-১ ০.১০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-বি-২ ০.০৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি ৪১ মিলিগ্রাম ঔষধিগুণ ১. পাকা আম ক্যারোটিনে ভরপুর, ভেষজ চিকিৎসায় পাকা ফল টনিক বা বল বৃদ্ধিকারক রূপে ব্যবহার করা হয়। ২. আম লিভার বা যকৃতের জন্য উপকারী। ৩. রাতকানা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে পাকা ও কাঁচা আম বেশ উপকারী। ৪. রক্ত পড়া বন্ধ করতে আম গাছের রস উপকারী ; কচি পাতার রস দাঁতের ব্যথা কমায়। চাষ প্রধান এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, নাটোর, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও সাতক্ষীরাতেই বেশি পরিমাণে চাষ হয়। জাত আম সাধারণত: দুই ধরনের হয়, গুটির আম এবং কলমের আম। গুটির জাত আঁটি থেকে উৎপন্ন হওয়ায় সাধারণত: নিম্নমানের এবং এগুলিতে অনেক বিভিন্নতা দেখা যায়। কলমের আম জাত অনুযায়ী একই গুণ, মান, আকার ও আকৃতির হয়ে থাকে। পাকার সময় অনুসারে আমের জাত গুলোকে আগাম, মধ্য মৌসুমী ও নাবী এ তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। জাত সমূহ আগাম মধ্য মে হতে মধ্য জুন মাসের মধ্যে পাকে। গোপালভোগ, খিরসাপাত, বৃন্দাবনী ও বারি আম-১ (মহানন্দা) ইত্যাদি আগাম জাত হিসেবে উল্লেখযোগ্য। মধ্য মৌসুমী মধ্য জুন হতে জুন মাসের শেষ দিকে পাকে। ল্যাংড়া, কিষাণভোগ, কোহিতুর, হিমসাগর, সূর্যপুরী, বারি আম-২ (লক্ষণভোগ) ও বারি আম-৩ (আম্রপালী) ইত্যাদি হলো মধ্য মৌসুমী জাত। নাবী জুলাই হতে আগস্ট মাসের মাঝামাঝির দিকে পাকে। বারি আম-৪, ফজলি, আশ্বিনা, মোহনভোগ ও কুয়াপাহাড়ী হলো নাবী জাত। আশ্বিনা জাতটি সবচেয়ে শেষে পাকে। আমের বাণিজ্যিক ও জনপ্রিয় জাতের মধ্যে গোপালভোগ, খিরসাপাত, ল্যাংড়া, হিমসাগর, ফজলি, আশ্বিনা, সূর্যপুরী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বাণিজ্যিক জাতের আম গাছে প্রতি বছর আম ধরে না। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে আমের চারটি উন্নত জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। জাতগুলো হলো বারি আম-১, বারি আম-২, বারি আম-৩ ও বারি আম-৪ (হাইব্রীড)। এসব জাত প্রতি বছরই ফল দিয়ে থাকে। জাতগুলোর প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নের ছকে দেখানো হলো: ১. বারি আম-১ বৈশিষ্ট্য ফুল আসার সময়: পৌষের মাঝামাঝি ফলের আকৃতি: আকৃতি প্রায় গোলাকার, ওজন: ২০০ গ্রাম ফলের রং: আকর্ষণীয় হলদে শাঁসের রং: গাঢ় হলুদ শাঁসের ধরন: রসালো ও আঁশহীন এবং মিষ্টি, গড় মিষ্টতা (টিএসএস)-২০%। খাবারযোগ্য অংশ: ৭০% সংগ্রহের সময়: জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি গাছ প্রতি ফলের সংখ্যা: ৭০০ থেকে ৮০০টি। ২.বারি আম-২ বৈশিষ্ট্য ফুল আসার সময়: ফাল্গুনের ১ম সপ্তাহ ফলের আকৃতি : পুরোপুরি গোল নয় ওজন: ১৮০ গ্রাম ফলের রং: গাঢ় হলুদ শাঁসের রং: গাঢ় হলুদ শাঁসের ধরন: রসালো ও আঁশহীন এবং মিষ্টি, মিষ্টতা গড়ে ১৭.৫%। খাবারযোগ্য অংশ: ৭০% সংগ্রহের সময়: আষাঢ়ের ১ম সপ্তাহ গাছ প্রতি ফলের সংখ্যা: ৬০০ থেকে ১০০০টি। ৩. বারি আম-৩ (আম্রপলি) বৈশিষ্ট্য ফল দেয়: প্রত্যেক বছর ফুল আসার সময়: ফাল্গুনের ২য় সপ্তাহ ফলের আকৃতি: লম্বাটে ডিম্বাকৃতি, ওজন: গড়ে ২০২ গ্রাম ফলের রং: হলুদাভ সবুজ শাঁসের রং: গাঢ় কমলা শাঁসের ধরন: রসালো ও আঁশহীন এবং খুব মিষ্টি, মিষ্টতা গড়ে ২৩.৩%। খাবারযোগ্য অংশ: ৭০% সংগ্রহের সময়: আষাঢ়ের ৩য় সপ্তাহ গাছ প্রতি ফলের সংখ্যা: ৮০০ থেকে ১২০০টি। ৪. বারি আম-৪ (হাইব্রিড) বৈশিষ্ট্য ফল দেয়: প্রত্যেক বছর ফুল আসার সময়: ফাল্গুনের ২য় সপ্তাহ ফলের আকৃতি: পুরোপুরি গোল নয় ওজন: গড়ে ৬২০ গ্রাম ফলের রং: হালকা হলুদ শাঁসের রং: হলদে শাঁসের ধরন: রসালো ও আঁশহীন এবং খুব মিষ্টি, মিষ্টতা গড়ে ২৩%। খাবারযোগ্য অংশ: ৭৮% সংগ্রহের সময়: শ্রাবণ মাস গাছ প্রতি ফলের সংখ্যা: ৩৫০ থেকে ৬০০টি বাণিজ্যিক জাত ১. গোপালভোগ বৈশিষ্ট্য সবচেয়ে আগাম জাত এবং বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা যায়। ফলের আকার: ছোট থেকে মাঝারি। ফল ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি লম্বা, ২ থেকে ৩ ইঞ্চি চ্যাপ্টা ও ২ থেকে ২.৫ ইঞ্চি পুরু। ওজন: গড়ে ২১০ গ্রাম শাঁস: আঁশবিহীন, সুগন্ধী, রসাল ও মিষ্টি কিন্তু সংরক্ষণ গুণ ভালো নয়। মিষ্টতা গড়ে ২২.৬%। বোঁটা ও খোসা: শক্ত, খানিকটা লম্বাটে গোলাকার, খোসা কিছুটা মোটা। ফলের রং: পাকলে সবুজ হলুদাভ রং ধারণ করে। শাসের রং: গাঢ় কমলা বাদামী। আঁটি: ছোট কিন্তু পুরু। ফুল আসার সময়: মাঘের মাঝামাঝি। ফাল্গুনে মুকুল ফুটে এবং চৈত্র মাসে দানা চলে আসে। জ্যৈষ্ঠ মাসে আম বাজারজাত করা হয়। খাবারযোগ্য অংশ: প্রায় ৬০%। ২. হিমসাগর বৈশিষ্ট্য গোপালভোগের মত বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। ফলের আকার: মাঝারি ধরণের। ওজন: : গড়ে ২২০ গ্রাম। ফলের আকার: ৩.৫ থেকে ৪.৫ ইঞ্চি লম্বা, ২.৫ থেকে ৩ ইঞ্চি চ্যাপ্টা ও ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পুরু। ত্বক মাঝারি পুরু। ফলের বোঁটা: শক্ত, সহজে ঝরে পড়ে না। আঁটি: ছোট থেকে মাঝারি। শাঁস: আঁশবিহীন, মিষ্টি, রসাল, সুস্বাদু ও হলুদাভ কমলা। খাবারযোগ্য অংশ: প্রায় ৬৫%। ৩. খিরসাপাত বৈশিষ্ট্য এটি বানিজ্যিকভাবে চাষ করা যায়। আমের আকার: ছোট থেকে মাঝারি ধরণের আম, ৩.৫ থেকে ৪ ইঞ্চি লম্বা, ২.৫ থেকে ৩ ইঞ্চি চ্যাপ্টা এবং ২.৫ থেকে ৩ ইঞ্চি পুরু। ওজন: গড়ে ২৬৪ গ্রাম। আঁটি: পুরু ও ত্বক মাঝারি পুরু। শাঁস: আঁশবিহীন, রসাল, মিষ্টি ও সুগন্ধযুক্ত। মিষ্টতা গড়ে ১৮.৪%। ফলের রং: পাকলে হলুদাভ সবুজ হয়। গোপালভোগের ১৫ দিন পর থেকে আম পাকা শুরু করে। এর সংরক্ষণ ক্ষমতা বেশ ভালো। উৎকৃষ্ট জাতগুলির মধ্যে অন্যতম। খাবারযোগ্য অংশ: প্রায় ৬৮ ভাগ। ৪. ল্যাংড়া বৈশিষ্ট্য গুণাগুণের বিচারে সম্ভবত: ল্যাংড়াই বাংলাদেশের সবচেয়ে ভাল মানের আম এবং বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা যায়। ফলের আকার: ছোট থেকে মাঝারি, ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি লম্বা, ২.৫ থেকে ৩ ইঞ্চি চ্যাপ্টা ও ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পুরু। ওজন: গড়ে ৩১৫ গ্রাম। ফলের রং: ত্বক খুব পাতলা, পাকলে হালকা সবুজ থেকে হলুদাভ সবুজ হয়। শাঁস: আঁশবিহীন, হলুদ থেকে হালকা কমলা, সুগন্ধযুক্ত, শক্ত কিন্তু রসাল, অত্যন্ত মুখরোচক, ফলের মিষ্টতা গড়ে ২০%। আঁটি: খুব ছোট ও পাতলা। খাবারযোগ্য অংশ: প্রায় ৭৪%, আঁটি ১১%, খোসা ১৬%। ফল সংগ্রহ: মধ্য জুন থেকে মধ্য জুলাই পর্যন্ত। এ জাতের আম খিরসাপাতের পরে পাকে। ৫. কিষানভোগ বৈশিষ্ট্য ফলের আকার: মাঝারি ধরণের ফল। ফল কিছুটা গোলাকার। ওজন: গড়ে ৩০৪ গ্রাম। শাঁস: আঁশবিহীন, রসাল, মিষ্টি, শক্ত, খুব সুস্বাদু। মিষ্টতা গড়ে ১৮.৩%। আঁটি ও খোসা: হলুদাভ ও পুরু হয় কিন্তু ছোট। সংরক্ষণ ক্ষমতা: খুব বেশি। ৬. বোম্বাই বৈশিষ্ট্য ফলের আকার: উৎকৃষ্ট মানের আম। ফল মাঝারি আকৃতির। ফল গড়ে লম্বায় প্রায় ৪.৩৩ ইঞ্চি, পাশে প্রায় ৩.২২ ইঞ্চি, উচ্চতায় প্রায় ২.৯১ ইঞ্চি। ওজন: গড়ে ৩৮৮ গ্রাম। আঁটি ও খোসা: আঁটি পাতলা, আমের খোসা মোটা। ফলের সংরক্ষণ ক্ষমতা ভালো। খাবারযোগ্য অংশ: প্রায় ৬৫ গ্রাম। ৭. ফজলি বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের সবচেয়ে মূল্যবান আম। এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা যায়। ফলের আকার: বড়, ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি লম্বা, ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি চ্যাপ্টা ও ৩ থেকে ৩.৫ ইঞ্চি পুরু। ওজন: গড়ে ৬৫৫ গ্রাম, ফলের রং: পাকালে হলুদাভ সবুজ রং ধারণ করে। শাঁস: আঁশবিহীন, কমলা হলুদ থেকে গাঢ় হলুদ, রসাল, মিষ্টি, অত্যন্ত সুস্বাদু ও মুখরোচক। মিষ্টতা গড়ে ১৭.৫%। আঁটি ও খোসা: বড়, চ্যাপ্টা ও হালকা। খোসা মাঝারি পুরু। ফলের সংরক্ষন ক্ষমতা ভালো। খাবারযোগ্য অংশ: শতকরা ৭৬ ভাগ। শতকরা ১০ ভাগ চামড়া ও শতকরা ১১ ভাগ আঁটি। ৮. আশ্বীনা বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের সবচেয়ে নাবীজাত। এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। ফলের আকার: বড়, ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি লম্বা, ৩ থেকে ৩.৫ ইঞ্চি পুরু। ওজন: গড়ে ৫৫২ গ্রাম। শাঁস: আঁশবিহীন, রসাল, নরম, হলুদ থেকে হলুদ-কমলা অথবা কমলা-লাল। আঁটি ও খোসা: আঁটি ছোট ও পাতলা এবং খোসা পুরু সবুজ থেকে গাঢ় সবুজ। স্বাদ ও গন্ধ: তেমন আকষর্ণীয় নয়। দেখতে কিছুটা ফজলির মতই কিন্তু গুণাগুণ ফজলির চেয়ে অনেক নিম্নমানের। খাবারযোগ্য অংশ: প্রায় ৭৮ গ্রাম। ৯. কুয়াপাহাড়ী বৈশিষ্ট্য স্হানীয়ভাবে কুমাপাহাড়ী নামে পরিচিত। জাত: এটি নাবীজাত। ফলের আকার: মাঝারি ধরণের আম। ওজন: গড়ে ৩৩০ গ্রাম। ফল পাকার সময়: আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে। স্বাদ ও গন্ধ: মধ্যম গুণ সম্পন্ন। শাঁস: প্রায় আঁশবিহীন, বেশ মিষ্টি। বোঁটা: শক্ত সহজে ঝরে পড়ে না। আঁটি ও খোসা: আঁটি ছোট, খোসা পাতলা সাধারণত: সবুজ। সংরক্ষণ গুণ: ভালো নয়। খাবারযোগ্য অংশ: শতকরা ৭০ ভাগ। আম চাষে কি লাভ? • বাংলাদেশের জমি ও আবহাওয়া আম চাষের জন্য উপযোগী। • আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়া যায়। অন্যকোন মাঠ ফসল থেকে এত লাভ পাওয়া যায় না। • আম একটি পুষ্টিকর খাদ্য। দেশে ও বিদেশে আমের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থান নির্বাচন/চাষের জন্য পরিবেশ ও মটি/জমি তৈরি স্থান নির্বাচন আম চাষের জন্য বর্ষার পানি জমে না এমন উঁচু ও মাঝরি উঁচু জমি নির্বাচন করতে হবে। বেলে দো-আঁশ মাটি আম চাষের জন্য বেশি উপযোগী। চাষের এলাকাটি বাজারের কাছে হলে ভালো হয় যাতে করে প্রয়োজনীয় উপকরণ দ্রুত সংগ্রহ করা যায় এবং উৎপাদিত ফল সংরক্ষণ ও বাজারজাত করা যায়। চাষের পরিবেশ ও মাটি জলবায়ূ বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা মাটির ধরণ অপেক্ষাকৃত কম আর্দ্র ও উষ্ণ আবহাওয়ায় আম ভালোভাবে জন্মাতে পারে। ফুল ধরা ও ফলধারণের সময় ঠান্ডা এবং ফলের বৃদ্ধি ও পাকার জন্য গরম আবহাওয়া প্রয়োজন। সারাবছর মোটামুটি বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রা ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রী সে.-এর মধ্যে থাকা ভাল।। ফুল ও ফল ধারণের সময় বৃষ্টিপাত না হওয়া ভাল কারণ ঐ সময় বৃষ্টিপাত হলে ফুলের পরাগরেণু বৃষ্টিতে ধুয়ে যায় এবং রোগের আক্রমণ ঘটে যা ফল ধরতে বাধা দেয়। পানি জমে না, উর্বর দো-আঁশ ও হালকা অম্লীয় মাটি আম চাষের জন্য ভালো। জমি তৈরি চাষ ও মই দিয়ে ভালোভাবে জমি তৈরি করার পর তা সমতল এবং আগাছামুক্ত করে নিতে হবে। জমি ভালোভাবে চাষ করলে গাছের শিকড় স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং পুষ্টিও সহজে পাওয়া যায়। সম্ভব হলে জমিতে সবুজ সার হিসেবে ধৈঞ্চা চাষ করা যেতে পারে। এতে মাটির গুণাগুণ ও উর্বরতা বেড়ে যায়। রোপণ পদ্ধতি চারা নির্বাচন চারা নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুস্হ-সবল এবং রোগ ও পোকার আক্রমণমুক্ত চারা রোপণ করলে ভালো ও সঠিক ফলন পাওয়া সম্ভব। বিকৃত চারা (বাঁকা, খাটো, ফেটে যাওয়া বা এই ধরনের কোন খুঁতসম্পন্ন চারা) নির্বাচন করা ঠিক নয়। কলমের আদি জোড় (মূল গাছ) ও উপজোড়ের (কলম করার জন্য যে ডাল ব্যবহার করা হয়) মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কিনা তা লক্ষ্য করা প্রয়োজন। রোপণের জন্য ৪ থেকে ৫ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন ২ থেকে ৩ বছর বয়সী ফাটল/ভিনিয়ার কলমের চারা বাগানে লাগানোর জন্য ভালো। চারা নির্বাচনের সময় জাতের বিশুদ্ধতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বীজের চারা কখনও লাগানো উচিত নয় কারণ তাতে গাছের মাতৃগুণ (মূল গাছের বৈশিষ্ট্য) বজায় থাকে না। এ জন্য বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান/সরকারী নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করা ভালো। গর্ত তৈরি প্রত্যেকটি গর্ত ৩ ফুট লম্বা, ৩ ফুট প্রস্হ এবং ৩ ফুট গভীর হতে হবে। গর্তে সার প্রয়োগ সারের নাম সারের পরিমাণ জৈব সার ২০ কেজি টিএসপি ৫০০ গ্রাম এমওপি ২৫০ গ্রাম জিপসাম ৩০০ গ্রাম জিংক সালফেট ৫০ গ্রাম বরিক এসিড ৫০ গ্রাম রোপণ প্রণালী সঠিক রোপণ প্রণালী অনুসরণ করে গাছ লাগানো একান্ত প্রয়োজন, যাতে প্রত্যেকটি গাছ উপযুক্ত দূরত্ব বজায় রেখে স্বাভাবিকভাবে ফুল ও ফল ধারণ করে। বাগানে আম গাছ কয়েকটি প্রণালীতে রোপণ করা যেতে পারে। নীচে সেগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো। প্রণালীর নাম বর্ণনা বর্গাকার এটি আম গাছ লাগানোর সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে রোপণের ক্ষেত্রে গাছ থেকে গাছ ও সারি থেকে সারির দূরত্ব সমান থাকে এবং দুই সারির পাশাপাশি চারটি গাছ মিলে একটি বর্গক্ষেত্র তৈরি করে। এ পদ্ধতিতে প্রতিটি গাছের ডালপালা সমানভাবে বেড়ে উঠতে পারে। ফলে বাগান দেখতেও খুব সুন্দর হয়। আয়তাকার এ ধরণের রোপণ প্রণালী বর্গাকার পদ্ধতির মতই তবে প্রধান পার্থক্য হচ্ছে গাছ থেকে গাছের দূরত্ব সারি থেকে সারির দূরত্বের চেয়ে কম। ফলে দুই সারির পাশাপাশি চারটি গাছ মিলে এটি আয়তক্ষেত্র সৃষ্টি করে। এ পদ্ধতিতেও আন্তঃপরিচর্যা করা বেশ সহজ। ত্রিভুজাকার এই পদ্ধতিতে রোপণের ক্ষেত্রে পাশাপাশি দুই সারির তিনটি গাছ মিলে একটি ত্রিভুজ তরি হয়। ফলে নির্দিষ্ট জমিতে বর্গাকার পদ্ধতির চেয়ে এই পদ্ধতিতে গাছের সংখ্যা কমে যায়। এই পদ্ধতিতে রোপণ করা গাছগুলো তিনদিক থেকেই সারিবদ্ধ দেখায়। ষড়ভুজী এই পদ্ধতিতে পাশাপাশি দুই সারির তিনটি গাছ মিলে একটি ত্রিভুজ গঠিত হয় এবং পাশাপাশি তিন সারির ছয়টি গাছ মিলে একটি ষড়ভুজ তৈরি হয়। যার কেন্দ্রেও একটি গাছ থাকে। সমান দূরত্বে গাছ রোপণ করা হলে সারি থেকে সারির দূরত্ব কমে যায়। ফলে নির্দিষ্ট জমিতে বর্গাকার পদ্ধতির চেয়ে এই পদ্ধতিতে শতকরা ১৫টি গাছ বেশি লাগানো যায়। সুতরাং বাণিজ্যিকভাবে আম বাগান করতে এই পদ্ধতি বেশি ব্যবহার করা উচিত। তারকাকৃতি এটি বর্গাকার পদ্ধতির একটি বিশেষ রূপ। এতে গাছকে বর্গাকারে রোপণ করা হয়। তারপর পাশাপাশি দুই সারির চারটি গাছ মিলে যে বর্গক্ষেত্র তৈরী হয়, তার ঠিক মাঝখানে একটি দ্রুত বর্ধনশীল (খুব তাড়াতাড়ি বাড়ে এমন) ছোট আকারের গাছ লাগানো হয়। এ গাছটি অস্হায়ীভাবে থাকে এবং একে 'ফিলার গাছ' বলা হয়। রোপণ করা  গাছগুলো বড় হয়ে গেলে ফিলার গাছগুলোকে কেটে দেওয়া হয়। এ পদ্ধতিতে গাছ রোপণ করলে নির্দিষ্ট জমিতে বর্গাকার পদ্ধতির দ্বিগুণ গাছ প্রয়োজন হয়।   আন্তঃপরিচর্যা সেচ ব্যবস্হা চারা গাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য ঘন ঘন সেচ দিতে হবে। ফল ধরেছে এমন গাছে মুকুল বের হবার ৩ মাস আগে থেকে সেচ দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে। আমের মুকুল ফোটার শেষ পর্যায়ে এক বার এবং ফল মটর দানার আকৃতি ধারণ পর্যায়ে আর একবার "পরিবর্তিত বেসিন পদ্ধতিতে" (গাছের গোড়ার চারপাশে ৩ ফুট জায়গা সামান্য উঁচু রেখে দুপুর বেলা যতটুকু স্হানে গাছের ছায়া পড়ে ততটুকু স্হানে একটি থালার মত বেসিন তৈরি করা হয়) সেচ প্রয়োগ করতে হবে। এতে সেচে পানির পরিমাণ কম লাগে এবং গাছ বেশির ভাগ পানি গ্রহণ করতে পারে। সারের মাত্রা ও প্রয়োগ বয়স ভিত্তিতে গাছপ্রতি সারের পরিমাণ নিম্নে দেখানো হলো : সারের নাম গাছের বয়স (বছর) ১-৫ ৬-১০ ১১-২০ ২০-এর উর্দ্ধে গোবর (কেজি) ১৫ ২৫ ৪০ ৫০ ইউরিয়া (গ্রাম) ২৫০ ৭৫০ ১৫০০ ২০০০ টিএসপি (গ্রাম) ২৫০ ৫০০ ৭৫০ ১০০০ এমপি (গ্রাম) ১০০ ২৫০ ৪৫০ ৫০০ জিপসাম (গ্রাম) ১০০ ২৫০ ৪০০ ৫০০ জিংক সালফেট (গ্রাম) ১০ ১৫ ২০ ২৫ লক্ষ্যণীয়: ১. গাছের বয়স বেশি হলে এবং আকার বড় হলে সারের মাত্রা বাড়াতে হবে। ২. উল্লিখিত সার ২ ভাগে ভাগ করে প্রথম ভাগ জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে এবং দ্বিতীয় ভাগ ভাদ্র-আশ্বিন মাসে প্রয়োগ করতে হবে। ৩. জিপসাম ও জিংক সালফেট এক বছর পর পর প্রয়োগ করলেও চলবে। ৪. প্রয়োজনে সার প্রয়োগের পর হালকা সেচ দিতে হবে। ৫. আশ্বিন মাসের পর গাছে সার না দেওয়াই ভাল। চাষী পর্যায়ে সার প্রয়োগ চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষীরা ৫০ বছর বয়সের গাছে ইউরিয়া ৩ কেজি, টিএসপি ৬ কেজি এবং এমওপি বা পটাশ ৬ কেজি হারে আষাঢ়-শ্রাবন মাসে দিয়ে থাকেন।   (সূত্র: ফিল্ড সার্ভে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১৯.০৭.০৭) গাছের গোড়ায় মাটি গাছের গোড়া মাটি দিয়ে কিছুটা উঁচু করে রাখতে হবে যাতে বৃষ্টির পানি জমা হয়ে না থাকতে পারে। গাছের মুকুল ভাঙ্গন কলমের চারায় ২ থেকে ১ বছর পরেই মুকুল দেখা দিতে পারে। ৪ থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত গাছের সব মুকুল ভেঙ্গে ফেলা উচিত। কারণ মুকুল আসার কারনে গাছের বৃদ্ধি কমে যায়। প্রথমদিকে গাছের বৃদ্ধি কমে গেলে সে গাছ থেকে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায় না। ডাল ছাঁটাইকরণ গাছকে সুন্দর কাঠামো দেওয়ার জন্য রোপণের পর থেকে ২ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত গোড়ার দিকে ৪ থেকে ৫ ফুট কান্ড রেখে নীচের সমস্ত ডাল ছাঁটাই করতে হবে। প্রতি বছর বর্ষার শেষে মরা, রোগাক্রান্ত ও দূর্বল ডালপালা কেটে দিতে হবে। ফলন্ত গাছের ডালপালা ছাঁটাইকরণ আম পাড়ার পর পরই রোগ বা পোকামাকড় দ্বারা আক্রান্ত ডালপালা কেটে ফেলা উচিত। গাছের ভিতরমুখী ডালপালা ছাঁটাই করে ফেলা ভালো। ভিতরমুখী ডালপালা কেটে ফেললে গাছের ভিতরের অংশে আলো-বাতাস প্রবেশ করবে এবং ফুল ও ফলধারণ বৃদ্ধি পাবে। গাছের ভিতর পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঢোকার ব্যবস্হা করলে রোগ ও পোকার আক্রমণ কম হবে। মোটা ডাল ছাঁটাই এর ক্ষেত্রে কাটা অংশে ডায়থেন এম-৪৫ প্রলেপ দিতে হবে । আগাছা দমন আগাছা আমগাছের খাদ্যে ভাগ বসায়। আমগাছের গোড়ায় যাতে আগাছা জন্মাতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আগাছা দমন করতে বাগানে লাঙ্গল বা পাওয়ার টিলারের সাহায্যে মাঝে মাঝে চাষের ব্যবস্হা করা যেতে পারে। প্রথমবার বর্ষা আরম্ভ হওয়ার সাথে সাথে এবং দ্বিতীয়বার বর্ষা শেষ হয়ে আসার পর পরই জমিতে চাষ দিয়ে আগাছা দমন করা যায়। পরগাছা দমন আম গাছে ২ থেকে ৩ জাতের পরগাছা উদ্ভিদ জন্মাতে দেখা যায়। পরগাছা আম গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি কমিয়ে দেয় এবং গাছকে দূর্বল করে ফেলে। পরগাছা গাছের খাদ্য খেয়ে ফেলে। পরগাছার আক্রমণে আমের ডাল মারাও যেতে পারে। পরগাছায় ফুল আসার আগেই বা ছোট অবস্হাতেই কেটে ফেলতে হবে। টপ-ওয়ার্কিং টপ-ওয়ার্কিং কি? এটি এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে অনুন্নত কোনো জাতের আম গাছে উন্নত জাতের সায়ন বা ডাল সংযোজন করে নতুন জাতে রূপান্তর করা হয়। কত বছর বয়সের গাছে করা যায়? ৮ থেকে ১০ বছরের গাছে জাত পরিবর্তন বেশ ভালো হয়। তবে ৪০ থেকে ৪৫ বছরের গাছেরও জাত পরিবর্তন করা ও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। কিভাবে করা হয়? এ পদ্ধতিতে ফেব্রুয়ারি মাসে ডালগুলো কেটে দেয়া হয় এবং জুন-জুলাই মাসে ভিনিয়ার পদ্ধতির মাধ্যমে নতুন জাতের ডগা দিয়ে কলম করা হয়। ডাল ছাঁটাইয়ের পরে অসংখ্য কুশী বের হয়। প্রতি কাটা ডালে ২ থেকে ৩টি সুস্হ সবল কুশী রেখে বাকী কুশীগুলোতে কলম করা হয়। রূপান্তরের পরে মূল গাছ থেকে নতুন কোন কুশী বের হলে তা ভেঙে দিতে হবে। এভাবেই গাছটি নতুন জাতে পরিণত হয়। কখন থেকে গাছে ফল ধরে? এ জাতের গাছ সাধারণত: তৃতীয় বছর থেকে আম দেওয়া শুরু করে। তবে কোন কোন সময় দ্বিতীয় বছরেও মুকুল ধরতে দেখা যায়। আমের সাথে সাথী ফসলের চাষ জমিতে চারা লাগানোর পর প্রথম ৫ বছর যেকোনো মাঠ ফসল চাষ করা চলে। এরপর গাছের ফাঁকে ফাঁকে যে খোলা জমি পড়ে থাকে তাতে অল্প দিনের যেকোনো ফসল যেমন গ্রীষ্ম ও শীতকালীন সবজি চাষ করা যায়। তাছাড়া মিশ্র ফল বাগান হিসেবে কুল, পেয়ারা, আনারস, পেঁপে ইত্যাদি ফলের চাষ করা যায়। এতে জমি পরিষ্কার থাকে এবং অতিরিক্ত আয়ের ব্যবস্হা হয়। এ ছাড়া ডাল জাতীয় ফসল (যেমন মাসকলাই ও মসুর) এর চাষ করলে মাটির উর্বরতা শক্তি বেড়ে যায় এবং আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। খুঁটি দেয়া ও বেড়া নির্মাণ চারা লাগানোর পর খুঁটি দিয়ে ভালোভাবে শক্ত করে বেঁধে দিতে হবে যাতে ঝড় বা বাতাসে গাছ হেলে পড়তে না পারে। গাছের গুঁড়ি শক্ত না হওয়া পর্যন্ত খুঁটি রাখতে হবে। প্রয়োজনে প্রত্যেক চারায় বেড়া বা খাঁচা দেওয়ার ব্যবস্হা করতে হবে। পোকামাকড় ও রোগবালাই পোকামাকড় পোকার নাম লক্ষণ প্রতিকার আমের হপার পোকা আমের মুকুলে অসংখ্য হপার নিম্ফ (পোকার ছোট অবস্হা) দেখা যায়। নিম্ফগুলি মুকুলের রস চোষার ফলে মুকুল শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে ঝরে যায়। এছাড়া নিম্ফগুলি অতিরিক্ত রস চোষার ফলে এক প্রকার আঠালো মধুরস ত্যাগ করে যা ফুল ও গাছের পাতায় আটকে যায়। পোকার আক্রমণে মুকুল নষ্ট হয়ে যায়। ফুল ও পাতায় মধুরসে ভূষাছত্রাক জন্মে ও পরে কালো হয়। ১. আম গাছে মুকুল আসার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে একবার, মুকুল ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি হলে একবার এবং গুটি মটরদানার মত হলে একবার এভাবে মোট তিনবার প্রতি লিটার পানির সাথে ১.০ মিলি বুস্টার/রিপকর্ড/সিমবুশ ১০ ইসি অথবা ২ মিলি স্টার্টার ৪০ ইসি মিশিয়ে গাছের পাতা, মুকুল ও ডালপালা ভালোভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে। ২. আমের এ্যানথ্রাকনোজ রোগ দমনের ছত্রাক নাশক এবং হপার দমনের কীটনাশক একত্রে মিশিয়ে স্প্রে করা যায়। এতে শ্রম ও অর্থ দুটোই কম লাগে। আমের উইভিল বা ভোমরা পোকা আম মার্বেল আকারের হলে পোকা আমের গায়ে ডিম পাড়ে। ডিম থেকে কীড়া বের হয়ে আম ছিদ্র করে ঢুকে পড়ে। পোকা আম খেতে থাকে ও বড় হতে থাকে। ফল বড় হওয়ার সাথে সাথে ছিদ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। এ জন্য বাইরে থেকে আমটি ভাল মনে হলেও ভিতরে কীড়া পাওয়া যায়। যমুনার পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে এ পোকার উপদ্রব সবচেয়ে বেশি। ১. কলমের গাছ লাগাতে হবে। ২. ফল মার্বেল আকার হলে প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি মর্টার ৪৮ ইসি বা ২ মিলি ক্লোরোপাইরিফস ২০ ইসি, লিবাসিড ৫০ ইসি বা সুমিথিয়ন ৫০ ইসি ২ মিলি হারে মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর ২ বার স্প্রে করে ভালো ফল পাওয় যায়। ৩. আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে ভিতরের পোকা মেরে ফেলতে হবে। আমের মাছি পোকা আম পাকার কিছুদিন পরে স্ত্রী মাছি ডিম পাড়ার অঙ্গের সাহায্যে আমের গা ছিদ্র করে তার মধ্যে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে কীড়া বের হয়ে ফলের শাঁস খায়। আক্রান্ত আম কাটলে তাতে অসংখ্য কীড়া দেখা যায়। ১. ১০০ গ্রাম পাকা আমের রসের সাথে ১ গ্রাম সেভিন অথবা ১ মিলি মর্টার ৪৮ ইসি মিশানো বিষটোপ ব্যবহার করতে হবে। ২. আম পাড়ার ২ থেকে ৩ সপ্তাহ পূর্বে ৪ থেকে ৫ দিন পরপর ২ থেকে ৩ বার ব্লিচিং পাউডার (৫ গ্রাম/লিটার) স্প্রে করলে মাছি দূরে চলে যায়। ৩. পাকার আগেই আম সংগ্রহ করতে হবে। আমের পাতা খেকো শুঁয়া পোকা এ পোকার আক্রমণে গাছ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে পত্রশূন্য হয়ে পড়ে। শুঁয়া পোকা পাতার ফলক সম্পূর্ণ খেয়ে শুধু মধ্যশিরাটি রাখে। এ পোকা দমন করা কঠিন ব্যাপার। ছোট অবস্হায় সবগুলো পোকা একসঙ্গে থাকে। এই সময়ে সেগুলি সংগ্রহ করে মেরে ফেলতে হবে। পাতার গল পোকা পোকা কচি পাতায় ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বাচ্চা বের হয়ে পাতার মধ্যে অবস্হান করে এবং এক প্রকার গল বা টিউমার তরি করে। আক্রান্ত পাতা বিকৃত হতে পারে। ১. আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেললে পোকার বংশ বৃদ্ধি হতে পারে না। ২. ১০০ গ্রাম পাকা আমের রসের সাথে ১ গ্রাম সেভিন অথবা ১ মিলি মর্টার ৪৮ ইসি মিশানো বিষটোপ ব্যবহার করতে হবে। পাতা কাটা উইভিল বয়স্ক পোকা কচি পাতায় ডিম পাড়ার পর তা কেটে ফেলে। ১. কাটা পাতা সংগ্রহ করে ধ্বংস করলে এ পোকার সংখ্যা কমিয়ে ফেলা সম্ভব। ২. নার্সারিতে নতুন বের হওয়া পাতাসহ ডগাকে মশারির নেট দিয়ে তরি ব্যাগ দিয়ে ঢেকে দিলে পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়। আম গাছের কাণ্ডের মাজরা পোকা আক্রান্ত কাণ্ড ও শাখার আক্রমণ স্হান দিয়ে শুকনা কাঠের গুঁড়ার মত পোকার মল বের হয়। অল্প বয়সের গাছের কাণ্ড আক্রান্ত হলে গাছ মারা যেতে পারে। আক্রান্ত শাখাগুলি বাতাসে সহজেই ভেঙ্গে যায়। সুড়ঙ্গ পথে র্সুঁচালো শিক ঢুকিয়ে খুঁচিয়ে পোকার কীড়া মারা সম্ভব। সুড়ঙ্গঁ বড় হলে একটু পরিষ্কার করে তার মধ্যে কেরোসিন বা পেট্রোল ভেজানো তুলা ঢুকিয়ে সুড়ঙ্গেঁর মুখ কাদা দিয়ে বন্ধ করে পোকার কীড়া মেরে ফেলা সম্ভব। রোগবালাই রোগের নাম লক্ষণ প্রতিকার এ্যানথ্রাকনোজ গাছের পাতা, কান্ড, মুকুল ও ফলে ধূসর বাদামী রংয়ের দাগ পড়ে। মুকুল ঝরে যায়। আমের গায়ে কালচে দাগ হয় এবং আম পচে যায়। ১. আমের মৌসুম শেষে গাছের মরা ডালপালা কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। ২. গাছের নীচে পড়ে থাকা রোগাক্রান্ত পাতা কুড়িয়ে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। ৩. মুকুল ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি হলে প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি টিল্ট-২৫০ ইসি/এন্টিসিকা ২৫০ ইসি অথবা ২ গ্রাম ডাইথেন এম-৪৫/বেনডাজিম ৫০ ডব্লিউপি মিশিয়ে সমস্ত মুকুল ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে। আমের আকার মটর দানার মত হলে ২য় বার স্প্রে করতে হবে। বাড়ন্ত আমে ১০ থেকে ১২ দিন পরপর ৩ থেকে ৪ বার বেনডাজিম/ব্যাভিস্টিন এবং টিল্ট/এন্টিসিকা ছত্রাকনাশক স্প্রে করলে আম রোগমুক্ত থাকে। পাউডারি মিলডিউ আমের মুকুলে ও কচি পাতায় সাদা পাউডারের মত আবরণ দেখা যায় এবং মুকুল ঝরে যায়। গাছে রোগ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে থিওভিট/এগ্রিসল/কুমুলাস ২ গ্রাম অথবা টিল্ট/এন্টিসিকা ২৫০ ইসি ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে। ডাইব্যাক বা আগামরা গাছের কচি ডাল আগা থেকে মরে শুকিয়ে যেতে থাকে। মরা ডগা নীচের দিকে বাড়তে থাকে। ১. মরা ডাল (কিছু ভাল অংশসহ) কেটে ফেলতে হবে; ২. নতুন পাতা বের হলে ডায়থেন এম-৪৫/এন্টিব্লাইট/বেনডাজিম ২ গ্রাম/লিটার হারে ৭ থেকে ১০ দিন পরপর ২ বার স্প্রে করতে হবে। স্যুটিমোল্ড বা ঝুলরোগ গাছের পাতার উপর ছত্রাকের কালো আবরণ পড়ে। আম গাছে হপার/স্কেল পোকা/ছাতরা পোকার নির্গত রসের উপর এই ছত্রাক জন্মায়। ১. আম গাছের পোকা দমন করতে হবে; ২. আমক্রণ বেশি হলে থিওভিট বা কুমুলাস বা এগ্রিসাল ৮০ ডিএফ প্রয়োগ করতে হবে। বোঁটাপচা বা ফল পচা এ রোগটি বর্তমানে আমের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক। আম পাড়ার পর আমের বোঁটার দিক থেকে পচন শুরু হয়। আক্রমণে পুরো ফলটি দ্রুত পচে যায়। ১. আম একটু বোঁটাসহ গাছ থেকে পাড়া। ২. ৫৫০ সে. তাপমাত্রায় পানিতে ৫ মিনিট ডুবানোর পর গুদামজাত করা। ৩. আম পাড়ার পর ব্যাভিস্টিন/বেনডাজিম প্রতি ১০ লিটার পানিতে ১০ গ্রাম দ্রবণ তৈরি করে তার মধ্যে ৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখার পর গুদামজাত করা। লক্ষ্যণীয়: ১. আমের ফলন বৃদ্ধি করতে মুকুল আসার আগে প্রতি ১০ লিটার পানিতে ১০ গ্রাম লিবরেল দস্তা ও ২০ গ্রাম লিবরেল বোরন স্প্রে করতে হবে। ২. আম মটর দানার মতো হলে একই নিয়মে লিবরেল দস্তা ও লিবরেল বোরন স্প্রে করতে হবে। ৩. আম গাছের পরিচর্যার সময় বা ফল সংগ্রহের পর অন্যান্য সারের সাথে প্রতি গাছে ১০ গ্রাম রুটোন প্রয়োগ করতে হবে। স্প্রের/ওষুধ ছিটানোর মূলনীতি সফলভাবে রোগ ও পোকা দমন করতে হলে স্প্রের ৪টি মূলনীতি অনুসরণ করা দরকার। এগুলো হলো- ১. সঠিক বালাইনাশক (কীটনাশক/ছত্রাকনাশক) নির্বাচন; ২. সঠিক মাত্রা (ডোজ) নির্ধারণ; ৩. সঠিক সময়ে স্প্রে করা; ৪. সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা। ৫. এর যেকোনো একটি ব্যতিক্রম করলে সঠিক ও আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায় না। স্প্রে/ ওষুধ ছিটানো পৌষ মাসে পাতায় প্রথম স্প্রে করা হয়। মাঘ মাসে মূকুলে দ্বিতীয় স্প্রে করা হয়। ফাল্গুন মাসে কোন স্প্রে করা যাবে না। মূকুল ফোটার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত স্প্রে চলবে। আবার আম যখন চৈত্র মাসে গুটি আকার ধারণ করে তখন স্প্রে করা হয়। স্প্রে করার জন্য সাধারণত: ফাইটার, ফেনফেন, রিপকর্ড এবং পেসকিল ব্যবহার করা হয়। (সূত্র: ফিল্ড সার্ভে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১৯-০৭-০৭) ফল সংগ্রহ ও ফলন ফল সংগ্রহ উপযোগী বৈশিষ্ট্য সংগ্রহের সময় কতদিন লাগবে প্রাকৃতিকভাবে ১ থেকে ২টি পাকা আম গাছ থেকে পড়া শুরু করে। অনেক সময় পাকা আম পাখিতে খাওয়া শুরু করে। পানিতে ডুবে গেলে বুঝতে হবে আম পেকেছে। বোঁটার নীচের অংশ হলুদ রং ধারণ করে। সকাল বেলা আম পাড়া ভাল। কারণ তখন আবহাওয়া ঠাণ্ডা থাকে। বৃষ্টি-বাদলের দিন আম পাড়া যাবে না। চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, আম পরিপূর্ণ পুষ্টতায় পৌঁছ্‌তে ফল ধারণের পর থেকে গোপালভোগ ৮৪ থেকে ৯১ দিন, খিরসাপাত ৮৭ থেকে ৯৫ দিন, ল্যাংড়া ৯৫ থেকে ১০৫ দিন, ফজলি ১১২ থেকে ১২০ দিন এবং 'বারি আম-১' এর জন্য ৮৫ থেকে ৯৩ দিন প্রয়োজন হয়। সংগ্রহ পদ্ধতি প্রধানত: দু'ভাবে আম পাড়া যায়, যেমন- ১. হাত দিয়ে ২. যন্ত্রের সাহায্যে। হাত দিয়ে আম পাড়া আম পাড়ার জন্য সংগ্রাহক বা ঠুসি ব্যবহার করা হয়। এটিতে লম্বা বাঁশের আগায় বাঁশের বাতার তৈরি একটি গোলাকার ফ্রেম থাকে। ফ্রেমের সাথে একটি দড়ির তৈরি জাল বা নেট আটকানো থাকে। ঝুলন্ত আম জালের মধ্যে ঢোকানোর পর টান দিলে আমের বোঁটা ছিড়ে যায় এবং আম জালের মধ্যে পড়ে যায়। এভাবে কয়েকটি আম জালে জমা হলে নীচে নামানো হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে একটি উন্নত ধরণের ঠুসি আবিষ্কার করা হয়েছে। এই ঠুসির গোলাকার ফ্রেমটি লোহার তৈরি এবং এতে দুটি ব্লেড যুক্ত আছে। এ ঠুসির মাধ্যমে বোঁটার কিছু অংশসহ আম পাড়া সম্ভব। যন্ত্রের সাহায্যে আম পাড়া হাত দিয়ে আম পাড়া বেশি সুবিধাজনক হলেও উন্নত দেশগুলোতে যন্ত্রের ব্যবহার বেশি হয়। সেখানে শ্রমিকের মজুরী বেশী হওয়ায় এবং তাড়াতাড়ি কাজ করার জন্য বিভিন্ন প্রকার যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। আম পাড়ার সতর্কতা ১. গাছের ডগা মোচড়ানো, আম মাটিতে ফেলে দেওয়া, আমের গায়ে আঘাত, ধূলা-মাটি ও সূর্যের তাপ লাগানো যাবে না। ২. আম পাড়ার পর বেশিক্ষণ গাছের নীচে জমা করে রাখা ঠিক নয় কারণ, বাতাসে ভাসমান রোগের জীবাণু এ সময় আমের বোঁটায় এসে পড়ে এবং বোঁটা পচা রোগের আক্রমণ করার সুযোগ পায়। ৩. ১ থেকে ১.৫ ইঞ্চি বোঁটাসহ আম পাড়তে পারলে বোঁটা পচা রোগের প্রকোপ অনেক কমে যায়। ৪. আম পাড়ার ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আম গাছে কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক স্প্রে করা যাবে না। ৫. বাজারজাতকরণের সুবিধার্থে কয়েক দফায় আম পাড়া যেতে পারে। আম রাখার পাত্র আম পাড়ার জন্য পাটের থলে, কাঠের বাক্স, কাগজের কার্টুন, প্লাস্টিকের বাস্কেট, বাঁশ বা বেতের তৈরি বিভিন্ন প্রকার ঝুড়ি ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। আমাদের দেশে সাধারণত: বাঁশের তৈরি ঝুড়ি বেশি ব্যবহার করা হয় তবে অনেক দেশে পলিপ্রোপাইলিন বা প্লাস্টিকের তৈরি পাত্র ব্যবহার হচ্ছে। ফলন জাত, পরিচর্যা এবং স্হানীয় আবহাওয়ার উপর আমের ফলন নির্ভর করে। কলমের গাছ ৪র্থ বা ৫ম বছর থেকেই ফল দেয়া শুরু করে। প্রথম দু’এক বছর ১০ থেকে ১৫ টি আম ধরে। পরবর্তী বছরগুলোতে এ সংখ্যা বেড়ে ৫০ থেকে ৭৫ টি হয়। দশম বর্ষে গাছ প্রতি প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি আম পাওয়া যেতে পারে। ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সের প্রতিটি গাছে অন-ইয়ার ১০০০ থেকে ৩০০০ টি আম ( গড় ওজন ২০০ থেকে ৬০০ কেজি) পাওয়া যায়। কলমের গাছে উৎপাদন ৩০ থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ভালো ফলন দেয় তারপর ক্রমান্বয়ে কমে যেতে পারে। সংরক্ষণ/প্যাকেটজাত/পরিবহন/ফসল সংগ্রহের পর করণীয় সংরক্ষণ পদ্ধতি পদ্ধতি তাপমাত্রায় ও আপেক্ষিক আর্দ্রতায় সময় বাঁশের বা বেতের ঝুড়ি, অথবা বাক্সে অধিকাংশ জাতের আম ১০ থেকে ১২ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রায় এবং ৮৫ থেকে ৯০% আপেক্ষিক আর্দ্রতায় ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ ভালোভাবে সংরক্ষণ করা যায় আম সংগ্রহের পর পচন রোগ যেমন বোঁটাপচা বা ফল পচা বা এ্যানথ্রাকনোজ হতে না পারে সেজন্য আমকে ৫৫০ সে. তাপমাত্রার গরম পানিতে ৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখার পর সংরক্ষণ করলে ১২ থেকে ১৫ দিন আম ভালো থাকে। গরম পানিতে ট্রিটমেন্ট করা আমের স্বাদ নষ্ট হয় না বরং তার গায়ের রং আরো উজ্জল হয়। আম সংরক্ষণ তাজা আম সংরক্ষণ ১. গরম এলাকার ও গরমকালের ফল হওয়ার কারণে তাজা আম বেশি দিন সংরক্ষণ করে রাখা যায় না। সংগ্রহের পর গরম পানিতে আম ট্রিটমেন্ট করলে আমের বোঁটা বা খোসায় যে সমস্ত জীবাণু থাকে তা মারা যায় ফলে আম জীবাণুমুক্ত হয়। ২. ট্রিটমেন্টের পর সাধারণ তাপমাত্রায় গুদামজাত করলে আমের রং উজ্জ্বল হয় ও সংরক্ষণ ক্ষমতা বেড়ে যায়। ৩. ট্রিটমেন্ট করা আম ১২ থেকে ১৫ দিন ভালো থাকে। ৪. আম গাছে থাকা অবস্হায় 'পেনকোজেব' বা 'ইন্ডোফিল' প্রতি লিটারে পানিতে ৩ গ্রাম হারে মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর ৩ থেকে ৪ বার স্প্রে করলে আম জীবাণুমুক্ত থাকে। এ আমকে ১২ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করে রাখা যায়। ৫. আমকে বাণিজ্যিকভাবে রেফ্রিজারেটরে রাখা সম্ভব হয় না। তবে আধা-পাকা আমকে (বারি আম-১) পলিথিন ব্যাগে করে রেফ্রিজারেটরে রাখলে ৮ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত ভালোভাবে সংরক্ষণ করা যায়। ৬. কাঁচা আম খোসা ছড়ানোর পর ফালি করে কেটে পলিথিনে পুরে ডিপ ফ্রিজে এক বছর পর্যন্ত রাখা যায়। টক তরকারী রান্নায় বা আচার তৈরিতে সে আম দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সংরক্ষণ ১. পাকা আম বেশি দিন সংরক্ষণ করা সম্ভব না হলেও প্রক্রিয়াজাত করে অনেক দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব। ২. আমচুর তৈরি করে: কাঁচা আম ফালি করে কেটে অল্প হলুদ মেখে রোদ্রে শুকিয়ে আমচুর তৈরি করা যায়। আমচুর ভালোভাবে রোদ্রে শুকিয়ে বাতাস ঢুকবেনা এমন পাত্রে রেখে ২০ থেকে ২৫ দিন পরপর একবার বের করে রোদ্রে শুকিয়ে নিলে তা কয়েকমাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব। আমচুর দিয়ে আচার, চাটনি তৈরি বা টক তরকারী রান্নায় ব্যবহার করা যায়। ৩. আচার, চাটনি, আমের জুস ইত্যাদি তৈরী: আম দিয়ে অনেক মুখরোচক খাবার তৈরি করা যায। কাঁচা আম দিয়ে বিভিন্ন প্রকারের টক-ঝাল-মিষ্টি আচার, চাটনি এবং আঁটি শক্ত হওয়া আম দিয়ে সুস্বাদু মোরব্বা তৈরি করা যায়। পাকা আমের রস (জুস) জীবাণুমুক্ত করে ডিপ ফ্রিজে অনেক দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। বাচ্চাদের অতি প্রিয় পাকা আমের জুস সারা বছর পাওয়া যায়। পাকা আম দিয়ে আরো অনেক খাবার যেমন- স্কোয়াশ, জেলী, টফি, আম পাউডার, আম পিউরি, আমসত্ব ইত্যাদি তৈরি করা যায় এবং অনেক দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। বীজ সংরক্ষণ আমের আঁটি ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে অংকুরোদগম ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তাই চারা তৈরি করার জন্য রোগমুক্ত ও পাকা আম থেকে আঁটি সংগ্রহ করে সাত দিনের মধ্যে বীজতলায় ঘন করে বিছিয়ে ২ ইঞ্চি মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। গরম পানিতে আম ট্রিটমেন্ট কেনো এ পদ্ধতি অনুসরন করবো? আমকে রোগমুক্ত রাখা বা সংগ্রহ করা আমের পচন কমানোর জন্য বালাইনাশকের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। বালাইনাশকের ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য খাদ্যের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। গরম পানিতে আম ট্রিটমেন্ট এমনই একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ না করেও কার্যকরভাবে আমকে রোগমুক্ত করে এর সংরক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়। ট্রিটমেন্ট পদ্ধতি কি? গাছ থেকে ফল সংগ্রহের পর পরই ৫৫০ সে. তাপমাত্রার পানিতে ৫ থেকে ৭ মিনিট ডুবিয়ে রাখাকেই গরম পানিতে আম ট্রিটমেন্ট বলা হয়। এ ট্রিটমেন্টে আমের কোন ক্ষতি হয় না বরং ফলের বোঁটা ও খোসায় যে সমস্ত জীবাণু সুপ্তাবস্হায় (বীজ গজায় না এমন) থাকে তা মরা যায় ফলে আম জীবাণুমুক্ত হয়। কিভাবে করতে হয়? হট ওয়াটার বাথ: গরম পানিতে আম ট্রিটমেন্টের জন্য হট ওয়াটার বাথ ব্যবহার করা হয়। এতে একটি হিটার কয়েল এবং একটি ছোট ফ্যান রয়েছে। হিটার কয়েল পানি গরম করে এবং ফ্যানের দ্বারা এ তাপ বাথের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। থার্মোস্ট্যাট: বাথে একটি থার্মোস্ট্যাট রয়েছে যা পানির তাপমাত্রা স্হির রাখতে সাহায্য করে। পদ্ধতি: বাথে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি দ্বারা পূর্ণ করে সুইচ অন করলে পানি গরম হওয়া শুরু হয়। পানির তাপমাত্রা ৫৫০ সে. পৌঁছালে এক মিটার মশারীর নেটে বা কোন ধাতব নেট পাত্রে ৩ থেকে ৪ কেজি আম ৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখার পর উঠিয়ে ঘরের মেঝেতে কিছুক্ষণ মেলে রাখলে তা শুকিয়ে যাবে। মোড়ক/প্যাক করা: ট্রিটমেন্ট করা আমকে এবার প্যাকিং করে নিকটবর্তী বা দূরবর্তী বাজারে বিক্রয়ের জন্য প্রেরণ করা যাবে। বাড়িতে গরম পানিতে আম ট্রিটমেন্ট: পারিবারিক পর্যায়ে বা ছোট পরিসরেও গরম পানিতে আম ট্রিটমেন্ট করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে এ্যালুমিনিয়ামের বড় সসপেন ব্যবহার করা যেতে পারে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট আবিষ্কৃত মেশিন: অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বাণিজ্যিকভাবে গরম পানিতে আম ট্রিটমেন্ট উপযোগী একটি মেশিন আবিষ্কার করেছে। এটি বিদ্যুৎ শক্তিতে চলে। প্রতি ঘন্টায় ১০০০ কেজি আম ট্রিটমেন্ট করা সম্ভব। মেশিন দাম প্রায় ৮০ হাজার টাকা। প্রতি কেজি আম ট্রিটমেন্ট করতে .৫০ টাকার কম খরচ পড়ে। উপকারিতা ১. এ্যানথ্রাকনোজ অথবা বোঁটা পচা রোগে আক্রান্ত আম সহজেই জীবাণুমুক্ত করা যায়। ২. আমের সংরক্ষণ ক্ষমতা এক সপ্তাহ বাড়ানো যায়। ৩. আমাদের গায়ে যে আঠা লেগে থাকে তা গরম পানিতে ধুয়ে যায় ফলে আমের উজ্জ্বলতা বেড়ে যায়। ৪. পাকলে রং হয় না এমন জাতের অনেক আম হলুদ রং ধারণ করে। ৫. আমের স্বাদ কমে না বরং কোন কোন ক্ষেত্রে তা বেড়ে যায়। ৬. কোন রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয় না তাই এ পদ্ধতি স্বাস্হ্যের জন্য নিরাপদ ও পরিবেশ বান্ধব। ৭. আমের রং ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি, পচন রোধ এবং সংরক্ষণ ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় আম বেশি দামে বিক্রয় করা সম্ভব হয় ফলে সার্বিক মুনাফা বেড়ে যায়। ৮. ফল মাছি দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকলে আমের ভিতরে অবস্হানকারী মাছির কীড়া সহজেই মারা যায়। সাবধানতা ১. গাছ থেকে পাড়ার ২-৪ ঘণ্টার মধ্যেই গরম পানিতে আম ট্রিটমেন্ট করতে হবে। ২. পাকা, আধা পাকা বা আঘাতপ্রাপ্ত আম ট্রিটমেন্ট করা যাবে না। ৩. নির্ধারিত তাপমাত্রার চাইতে বেশি তাপমাত্রায় বা নির্ধারিত সময়ের বেশি সময় আম ট্রিটমেন্ট করলে আমের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ৪. ট্রিটমেন্ট করার সময় আম যাতে হট ওয়াটার বাথের তলা বা দেওয়াল স্পর্শ না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ৫. অপরিপক্ক আম ট্রিটমেন্ট করলে তা কুঁচকে যেতে পারে। বস্তাবন্দী বা প্যাকেটজাত পণ্যের গুণগত মান বজায় রেখে ভোক্তার নিকট পৌঁছানো এবং পরিবহন ও গুদামজাতকরণের সুবিধার জন্য আমের প্যাকিং একান্ত প্রয়োজন। দেশে উৎপাদিত ফলের মধ্যে আমের ক্ষেত্রেই প্যাকিং বাক্স ব্যবহার হয় এবং বাঁশের তৈরি ঝুড়িই আমের প্যাকিং-এ সব চাইতে বেশি ব্যবহৃত হয়। আম প্যাকিংয়ে সাধারণত: বাঁশের ঝুড়ি, কার্টুন, কাঠের বাক্স ও প্লাস্টিক ক্রেটস ব্যবহৃত হয়। তবে বাংলাদেশে বাঁশের ঝুড়িই বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এর সুবিধা হল দেশীয় উপকরণ দিয়ে তৈরি, সহজলভ্য এবং উৎপাদন খরচ কম। তবে প্রধান অসুবিধা হল প্যাকিং মজবুত না হওয়ায় গাদা করে রাখলে নীচের দিকে আমে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং সহজেই প্যাকেটের বিকৃতি ঘটে এতে ফলের গায়ে আঘাত লাগে। এটি পরিষ্কার বা জীবাণুমুক্ত করাও অসুবিধাজনক। বিদেশে আম রপ্তানীর ক্ষেত্রে প্যাকিং-এর জন্য কার্টুন ব্যবহার করা যেতে পারে। বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে প্রচলিত বাঁশের ঝুড়ির তুলনায় বারবার ব্যবহার উপযোগী কার্টুন বা কাঠের বাক্সে প্যাকিংকৃত আমে ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হয়। প্যাকেটের আকার-আকৃতি প্যাকেট এমন আকারের হওয়া উচিত যাতে একজন লোক অন্যের সাহায্য ছাড়াই তা স্হানান্তর করতে পারে। এজন্য প্যাকেট ২০-২৫ কেজির মধ্যে থাকা ভালো। প্যাকেটের আকৃতিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। গোলাকার প্যাকেটের চেয়ে আয়তাকার প্যাকেটে বেশি ফল রাখা যায়। এছাড়া আয়তাকার বাক্স যানবাহনে বা গাদা করে রাখতে গোলাকার বাক্সের চেয়ে কম জায়গার প্রয়োজন পড়ে। প্যাকিং পদ্ধতি প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন এলাকা, প্যাকিং প্রতিষ্ঠানের নাম, প্যাকিং তারিখ, ফলের নাম, জাতের নাম, ওজন, ফলের গ্রেড, প্যাকিং-এর আগে গরম পানিতে ট্রিটমেন্ট করা হয়েছে কি না ইত্যাদি বিষয়গুলোর উল্লেখ থাকা দরকার। প্যাকেট যেন রোদ্রে না থাকে বা বৃষ্টিতে না ভিজে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পরিবহন আম উৎপাদন হয় না এমন এলাকা বা প্রধান ব্যবসা কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য আম পরিবহনের প্রয়োজন। বাংলাদেশে সাধারণত: খোলা ট্রাকে ফলমূল পরিবহন করা হয়। ট্রাক ছাড়াও যাত্রীবাহী বাসের ছাদেও অনেক আম পরিবহন করা হয়। ট্রাকে আম পরিবহনে উপযুক্ত প্যাকেট বা প্যাকিং ব্যবস্হা অনুসরণ করা হয় না, আম ট্রাকে সাজানোর ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি মানা হয় না, ট্রাকে আম উঠানো নামানো (লোডিং ও আনলোডিং) এর সময় সতর্কতা অবলম্বন করা হয় না এবং ভর্তি ট্রাকে বাতাস চলাচলের ব্যবস্হা রাখা হয় না। পরিবহন জনিত কারণে ফলের যে ক্ষতি হয় তা যদি আমরা কমাতে চাই তাহলে পরিবহন ব্যবস্হার অবশ্যই উন্নতিসাধন করতে হবে। খোলা ট্রাকের চাইতে ঢাকা ট্রাকে আম পরিবহন বেশি সুবিধাজনক। কারণ এতে ফলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। তবে তাপ প্রতিরোধ করার জন্য বাতাস চলাচলের উপযুক্ত ব্যবস্হা রাখতে হবে। কাঠের বাক্সে আম পরিবহন খরচ হয় প্রতি কেজিতে ২.৫০ টাকা। ত্রিশ কেজি কার্টুনে পরিবহন করলে খরচ হয় টাকা ১.৬৩/কেজি। পাঁচ ও দশ কেজি কার্টুনে খরচ হয় যথাক্রমে টাকা ২.৬০ ও টাকা ২.১০/কেজি। সুপার মার্কেটে বিক্রির জন্য ৫ ও ১০ কেজি কার্টুন উপযুক্ত। ভালো প্যাকিং-এ আনা আমের অপচয় প্রায় নেই বললেই চলে এবং আমের ঔজ্জ্বল্য ভালো থাকে বলে প্যাকিং-এর এই বাড়তি খরচ করা আর্থিক বিবেচনায় লাভজনক। প্লাস্টিক ক্রেট ৫ থেকে ৭ বছর ব্যবহার করা যায় বলে খরচ হয় মাত্র টাকা ০.১৩/ কেজি। বাইরের প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে রক্ষার জন্য পরিবহনের সময় প্যাকেটগুলো ভালোভাবে ঢেকে রাখা উচিত। এছাড়া আম থেকে উৎপন্ন তাপ যাতে সুষ্ঠুভাবে বাইরে যেতে পারে তার ব্যবস্হা রাখতে হবে। ফসল সংগ্রহের পরের কাজ বাছাই ও শ্রেণীবিন্যাস ১. গাছ থেকে পাড়ার পর পরই আঘাত পাওয়া, গাছ থেকে মাটিতে পড়া এবং রোগ ও পোকায় আক্রান্ত আম আলাদা করতে হবে। এ সমস্ত আম প্যাকেট না করে তা স্হানীয় বাজারে বিক্রয় করে দেওয়া উচিত। আঘাতপ্রাপ্ত ফল প্যাকিং বাক্সে ঢুকালে তা তাড়াতাড়ি পচে যায় এবং বাক্সের অন্যান্য ফলের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। পাশ্ববর্তী ফলে পচন ধরে এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ২. ভাল আমগুলোকে ছোট, মাঝারি ও বড় এই তিন শ্রেণীতে ভাগ করে তা আলাদা আলাদা বাক্সে প্যাকেট করতে হবে। ফলের শ্রেণীবিন্যাসের ফলে ভালো মূল্য পাওয়া যায়। ৩. সংগ্রহোত্তর ক্ষতির কারণ আম সংগ্রহের পরও শ্বসন, প্রস্বেদন ইত্যাদি জৈবিক প্রক্রিয়াগুলো চলতে থাকে। এসব প্রক্রিয়া পারিপাশ্বিক আবহাওয়ায় দারুণ ভাবে প্রভাবিত হয়। জৈবিক প্রক্রিয়ায় কোন বিঘ্ন ঘটলে ফল দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। ৪. সংগ্রহোত্তর ক্ষতির প্রধান কারণ হচ্ছে ফলে শারীরিক আঘাত এবং অসতর্কতা। উৎপাদন থেকে শুরু করে ফল সংগ্রহ, প্যাকিং, পরিবহন, গুদামজাতকরণ, খাওয়া ইত্যাদি বিষয়ে সুষ্ঠু ব্যবস্হাপনা এদেশে গড়ে উঠেনি। ৫. বাংলাদেশে আমের মৌসুম হচ্ছে গ্রীষ্মকাল যখন উচ্চ তাপমাত্রা ও অধিক আপেক্ষিক আদ্রতা বিরাজ করে। এ ধরণের আবহাওয়া রোগের জীবাণু এবং পোকার বংশ বিস্তারের জন্য খুবই অনুকুল। ৬. আম সংরক্ষণের জন্য এ দেশে উপযুক্ত হিমাগার ব্যবস্হা গড়ে উঠেনি। ৭. আমাদের দেশে প্যাকিং ব্যবস্হা উন্নত না হওয়ায় পরিবহনের সময় আম আঘাত প্রাপ্ত হয় ও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। বিক্রয়ের সময় খোলা অবস্হায় তাপে আম নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ৮. ভোক্তার সংরক্ষণ পদ্ধতি, খাওয়ার পদ্ধতি, ইত্যাদির কারণেও ফল নষ্ট হয়ে থাকে। সংগ্রহের পর ক্ষতি কমানোর উপায় ১. আম পরিপূর্ণভাবে পরিপক্ক হলে ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় গাছ থেকে পাড়তে হবে। ২. গাছ থেকে আম পাড়ার পর তা সূর্যের তাপ থেকে দূরে রাখতে হবে এবং দ্রুত গাছের নীচ থেকে সরাতে হবে। ৩. পাড়ার সময় বা পরবর্তী পর্যায়ে আমে যাতে আঘাত না পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ৪. ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় আম গুদামজাত করতে হবে। হিমাগারে আম সংরক্ষণ করলে ঠান্ডা (প্রিকুলিং) করে নিতে হবে। হিমাগারে ৫. বাতাসের আদ্রতা শতকরা ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ এবং তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২০ সে. রাখতে হবে। ৬. পরিবহনের সময় পণ্যের মধ্যে বাতাস চলাচলের ব্যবস্হা রাখতে হবে। ৭. রোগ বা পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রতিহত বা উপযুক্ত দমন ব্যবস্হা নিতে হবে। ৮. প্যাকিং এর পূর্বেই রোগাক্রান্ত, আঘাতপ্রাপ্ত, পাকা আম বাছাই করে আদালা করতে হবে। উন্নত প্যাকিং ও পরিবহন ব্যবস্হা গ্রহণ করতে হবে। আম সংগ্রহের পর সকল ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ৯. প্রশিক্ষণ ও ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে আম চাষী ও আম ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির ব্যবস্হা করতে হবে। ১০. গরম পানিতে আম ট্রিটমেন্টকে জনপ্রিয় করতে হবে। বংশবিস্তার/বিকল্প ব্যবহার/বাজারজাতকরণ বংশ বিস্তার উন্নত জাতের আমগাছের বংশ বৃদ্ধি অঙ্গজ পদ্ধতিতে করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে ভিনিয়ার ও ক্লেফট গ্রাফটিং এর মাধ্যমে আমের বংশবৃদ্ধি করা হয়। এছাড়া স্টোন গ্রাফটিং এর মাধ্যমেও বংশ বৃদ্ধি করা যায়। আম গাছের অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি বা কলম করতে হলে আদি জোড়ের জন্য চারার প্রয়োজন হয় যা বীজতলায় উৎপাদন করা হয়ে থাকে। এক বছর বয়সের চারা কলম করার উপযোগী হয়।   বিকল্প ব্যবহার আম স্বাদে, গন্ধে, রঙে, রসনা তৃপ্তিতে সত্যিই অতুলনীয়। আম কাঁচা অবস্হায় টক, আচার জ্যাম, জেলি, আমচুর, আমসত্ত্ব, আমদুধ, জুসসহ নানাভাবে খাওয়া যায়। এ ছাড়া আমগাছের কাঠ দিয়ে আসবাবপত্র ও আমপাতা দিয়ে দাঁতের মাজন তৈরি করা যায়। বাজারজাতকরণ এলাকা ঢাকা, চগ্রাম, কুমিল্লা, চৌমহনী, রংপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, বরিশাল, ব্রাক্ষ্ণনবাড়ীয়া, সিলেট, খুলনা ও সিরাজগঞ্জ। বাজারজাতকরণ আমাদের দেশে আম বিক্রয়ের ২টি পদ্ধতি প্রচলিত আছে। যথা- ১. ব্যক্তিগত বিক্রয় পদ্ধতি এবং ২. পাইকারী বা ব্যবসাভিত্তিক বিক্রয় পদ্ধতি। ১. ব্যক্তিগত বিক্রয় পদ্ধতি যে সমস্ত কৃষকের বাড়ির উঠানে বা আশে-পাশে ২ থেকে ১টি আম গাছ আছে তারা নিজেরাই স্হানীয় বাজারে গাছের ফল বিক্রয় করে থাকেন। যারা বিক্রয় কাজের ঝামেলা পোহাতে চান না, তারা গাছের ফল ফড়িয়া বা দালালদের নিকট বিক্রয় করে দেন। আবার কোন কোন সময় স্হানীয় ছোট ব্যবসায়ীগণ বাগানের আম কিনে গাছ থেকে পাড়ার পর আড়তদারের নিকট বিক্রয় করে থাকেন। সাধারণত: প্রান্তিক চাষীরাই বাজারে আম নিয়ে বিক্রয় করে থাকে এবং যেখানে বাজার নিকটে কেবলমাত্র সেখানেই এ পদ্ধতি বিরাজমান। তবে স্হানীয়বাজারে বেশি আম বিক্রয় করার সুযোগ থাকে না। ২. ব্যবসাভিত্তিক বিক্রয় পদ্ধতি যে সমস্ত এলাকায় ব্যবসাভিত্তিক আম উৎপাদিত হয় সেখানে ব্যবসাভিত্তিক আম বাগান বিক্রয় পদ্ধতি প্রচলিত আছে। আম গাছে থাকা অবস্হায় বাগানের মালিক সমস্ত ফল বিক্রি করেন। ব্যবসায়ীরা বাগানের আম কিনে তার পরিচর্যা করতে থাকেন তবে বেশি মূল্য পাওয়া গেলে তিনি ক্রয়কৃত আম আবার বিক্রয় করে দেন। এভাবে আমের মালিকানা একাধিকবার হাত বদল হয়ে থাকে। সর্বশেষ ক্রেতা নিজ দায়িত্বে গাছ থেকে আম পাড়েন এবং প্যাকিং ও পাইকারী বিক্রয়ের ব্যবস্হা করেন। কখনো বাগান মালিক আমের মুকুল আসার আগেই কিংবা পরবর্তী কয়েক বছরের জন্য বাগানের আম বিক্রি করে দেন। আমের বাণিজ্যিক জাতগুলোতে এক বছর প্রচুর ফল দেয় কিন্তু পরবর্তী বছর তেমন ফল দেয় না। আমের ব্যবসাতেও এটি মারাত্মক অসুবিধার সৃষ্টি করে। তাই আম বাগানের ফল ২ থেকে ৩ বছরের জন্য অগ্রিম বিক্রয়ের প্রথা অনেক জায়গায় প্রচলিত আছে। দেশের আমচাষীগণ সংগঠিত নয়। উপজেলা, জেলা এবং জাতীয় পর্যায়ে আম চাষী সমিতি থাকা প্রয়োজন। এতে আম চাষীদের নিকট আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছানো সহজ হবে। আমের সঠিক মূল্য পাওয়ার জন্য বাজার সুষমকরণ এবং আমচাষীদের প্রকৃত সমস্যাগুলো কর্তৃপক্ষের নিকট পৌঁছানোর সুবিধা হবে। সরকারী ব্যবস্হাপনায় বা আম সমিতির মাধ্যমে আমের মেগাশপ স্হাপন করা যেতে পারে। তাছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আম প্রদর্শনীর ব্যবস্হা করে দেশে ও বিদেশে আমের বাজার সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। অধিক ফলনের জন্য পরামর্শ লাগানোর আগ পর্যন্ত চারা/কলমের জন্য নিম্নবর্ণিত ব্যবস্হা গ্রহণ করতে হবে- ১. লাগানোর পূর্ব পর্যন্ত চারা ছায়াযুক্ত স্হানে রাখতে হবে। ২. টিনের ছাউনির নীচে/পাকা ছাদের নীচে/পাকা মেঝের উপর না রাখা ভাল। ৩. প্রয়োজনমত পানি স্প্রে করে পাতাকে সজীব রাখতে হবে। সাধারণত: ২ থেকে ৪ বার পানি স্প্রে করা প্রয়োজন হয়। ৪. গোড়ার মাটি ভিজা রাখার ব্যবস্হা করতে হবে। ৫. হার্ডেনিং করা না থাকলে ছায়াতে ১০ থেকে ১২ দিন রেখে হার্ডিনিং করে অথবা হার্ডেনিং করা থাকলে সাথে সাথে লাগিয়ে দেয়া উত্তম। ৬. যে সকল স্হানে সূর্যের আলো সরাসরি লাগে না বা সব সময় ছায়া ও স্যাঁতস্যাঁতে থাকে সেখানে গাছ লাগানো যাবে না। ৭. বৃষ্টি সময়, গর্তে পানি জমে থাকা অবস্হায় কিংবা গর্তের মাটি কর্দমাক্ত থাকা অবস্হায় চারা লাগানো যাবে না। ৮. এক গাছ থেকে অন্য গাছের দূরত্ব হবে বেটে জাতের জন্য ১৮ থেকে ২৪ ফুট, মাঝারী জাতের জন্য ৩০ থেকে ৩২ ফুট এবং বড় জাতের জন্য ৪৩ থেকে ৪৬ ফুট। ৯. গর্তের মাপ হবে ৩×৩ ফুট এবং গভীরতা ৩ ফুট। গর্তে কাঁচা/টাট্‌কা গোবর প্রয়োগ করা যাবে না। ১০. সার মিশানো মাটি গর্তের ভিতর ভাল করে ভর্তি করতে হবে। এর ১৫ দিন পর গর্তের মাঝখানে চারা রোপণ করতে হবে। ১১. গর্তে সার দেয়া সম্ভব না হলে গর্তের উপরের মাটির নীচে এবং নীচের মাটি উপরে দিয়ে চারা রোপণ করতে হবে। ১২. গোড়ার মাটির সাথে থাকা বিচালী ও বাঁধন সম্পূর্ণ সরিয়ে ফেলে বিকেলে চারা রোপণ করতে হবে। ১৩. নার্সারিতে থাকাকালীন চারা/কলমের যতটুকু অংশ মাটিতে পোতা ছিল ততটুকু অংশ মাটিতে পুততে হবে। ১৪. চারার গোড়ার সাথে থাকা মাটি যেন না ভাঙ্গে সে বিষয়ে খেয়াল করতে হবে এবং গাছের গোড়ার মাটি কিছুটা উঁচু রাখতে হবে যাতে পানি জমতে না পারে। ১৫. শক্ত কাঠি/বাঁশ পুতে গাছটি সোজা রেখে সুতলী দিয়ে বেঁধে দিতে হবে। ১৬. চারা লাগানো হলে সকল পাতা ও গোড়াতে ঝর্ণা দিয়ে বা ঝরণার মত করে পানি দিয়ে ভালোভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে। ১৭. লাগানো চারা/কলমে নতুন পাতা আসার সাথে সাথে কীট ও ছত্রাকনাশক একত্রে মিশিয়ে ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে। ১৮. চারা/কলমের জোড়ের নীচের অংশে কুশি বের হলে তা ভেঙ্গে/কেটে দিতে হবে। ১৯. মাটি থেকে ৪ থেকে ৫ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত চারা/কলমের কোন ডাল রাখা উচিত নয়, কারণ এতে নীচের ডালে ধরা আম মাটিতে লেগে নষ্ট হবে এবং গাছের পরিচর্যা ঠিকমত করা যাবে না। ২০. পাঁচ বছর পর্যন্ত মুকুল ভেঙ্গে দিতে হবে, না হলে গাছের বৃদ্ধি ভাল হবে না। ২১. গাছের আকৃতি ঝোপালো ও বেশি ছোট রাখতে চাইলে ছোট চারা লাগিয়ে গাছের উচ্চতা ৫ থেকে ৬.৫ ফুট হলে গাছের মুল শাখার উপরের আগাগুলো কেটে দিতে হবে এবং প্রতি বছর ফল পাড়ার পর ডালের আগা কাঁচি বা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দিতে হবে। কাটার ঠিক পর পরই গাছে ছত্রাকনাশক ঔষধ স্প্রে করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করতে হবে। ২২. উচ্চ ফলনশীল জাতের ক্ষেত্রে গাছের সুষম বৃদ্ধি ও ভালো ফলন পেতে হলে ক্লেফট প্রাফটিং চারা রোপণ করতে হবে। আয়-ব্যয় হিসাব একর প্রতি আমের আয়-ব্যয় হিসাব নিম্নে দেওয়া হলো- বিবরণ প্রথম বছর দ্বিতীয় বছর তৃতীয় বছর চতুর্থ বছর পঞ্চম বছর সপ্তম বছর দশম বছর জমি লিজ (টাকা/বছর) ১০,০০০ ১০,০০০ ১০,০০০ ১০,০০০ ১০,০০০ ১২,০০০ ১২,০০০ শ্রমিক: চাষ, রোপণ ও পরিচর্যা (টাকা) ৫,০০ - - - - - - শ্রমিক: গাছ ছাঁটাই, কীটনাশক স্প্রে, নিড়ানী, সার প্রয়োগ (টাকা) ১,৫০০ ২,০০০ ২,৫০০ ৩,০০০ ৩,৫০০ ৪,৫০০ ৪,৫০০ চারা ক্রয়: ৩০০টি, কলমপ্রতি ৪০ টাকা ১২,০০০ - - - - - - সার ক্রয়: জৈব ও রাসায়নিক (টাকা) ১৫,০০০ ১৭,০০০ ১৯,০০০ ২১,০০০ ২৩,০০০ ২৭,০০০ ২৭,০০০ কীটনাশক ও তরল খাদ্য (টাকা) ১,৫০০ ২,০০০ ২,৫০০ ৩,০০০ ৩,৫০০ ৪,৫০০ ৪,৫০০ কৃষি যন্ত্রপাতি: স্প্রে মেশিন, কোদাল ৩,০০০ ৩,০০০ ৩,০০০ ৩,০০০ ৩,০০০ ৩,০০০ ৩,০০০ মোট খরচ (টাকা) - - - - - - - গাছ প্রতি উৎপাদন (কেজি/গাছের সংখ্যা) ০টি (৩০০টি) ২ কেজি (৩০০টি) ৫ কেজি (৩০০টি) ১৫ কেজি (৩০০টি) ১০ কেজি (১৫০টি) ৪০ কেজি (১৫০টি) ১০০ কেজি (৭৫ টি) মোট আয় (প্রতি কেজি আম ৫০ টাকা ধরে) - ৭৫,০০০ ১,৫০,০০০ ৩,০০,০০০ ৩,৭৫,০০০ ৬,০০,০০০ ৬,০০,০০০ নীট আয় (টাকা) -৪৮,০০০ ৪১,০০০ ১,১৩,০০০ ২,৬০,০০০ ৩,৩২,০০০ ৫,৪৯,০০০ - লক্ষ্যণীয়: চারা লাগানোর পর প্রথম ৪ থেকে ৫ বছর আম বাগানে সাথী ফসলের চাষ করা যাবে। এছাড়া যে বছর মাঝের গাছ কেটে ফেলা হবে সে বছরও ফাঁকা জায়গায় সাথী ফসলের চাষ করা সম্ভব। সাথী ফসল চাষ করলে এই লাভের পাশাপাশি আরো টাকা উপার্জন করা যাবে। তথ্যসূত্র ১. "কিভাবে বাড়াবেন আমের ফলন" প্রথম আলো, ১০ মার্চ ২০০৭। ২. ফল চাষের কলাকৌশল, কৃষি তথ্য সার্ভিস, কৃষি মন্ত্রণালয়, জুন-২০০৭। ৩. আম সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, চাঁপাই নবানগঞ্জ, বাংলাদেশ, মার্চ-২০০৬, ফাল্গুন-১৪১১। ৪. আম উৎপাদনের আধুনিক কলাকৌশল, উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, জয়দেবপুর, গাজীপুর, জুন ২০০৬। ৫. আম উৎপাদন প্রযুক্তি হস্তান্তর, কৃষক প্রশিক্ষণ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, চাঁপাইনবানগঞ্জ, ২৬ থেকে ৩০ জুন, ২০০৫। ৬. আমের চারা/কলম রোপণ পদ্ধতি, আজাদ হাইব্রীড হর্টিকালচার সেন্টার, ১৯/এ/১, মণিপুরীপাড়া, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫, অষ্টম সংস্করণ, ২৭ জুলাই, ২০০৫। ৭. আম বাগান স্হাপন ও এর ব্যবস্হাপনা, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, আগস্ট-২০০৫। ৮. ফলের বাগান, ডক্টর মোহাম্মদ ফেরদৌস মন্ডল, মোঃ রুহুল আমিন, পৃষ্ঠা-১২৫ থেকে ১৪৫, জুলাই- ১৯৯২। ৯. উচ্চ মূল্য ফসলের উৎপাদন প্রযুক্তি, (প্রশিক্ষণ মডিউল-২), নর্থওয়েষ্ট ক্রপ ডাইভারসিফিকেশন প্রজেক্ট (এনসিডিপি), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। ১০. আমের পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন ব্যবস্হাপনা, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০১।
Sunday, 24 October 2010 | 1149 hits
কৃষি বিষয়ক তথ্য/ফল জাতীয় ফসল
পরিচিতি পেঁপে বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান ফল, যা সবজি হিসেবেও খাওয়া যায় এবং সারা বছরই পাওয়া যায়। পেঁপের পুষ্টিমাণ অনেক হওয়ায় মানব দেহের রোগ প্রতিরোধে এটি ভালো ভমিকা রাখে। কথায় আছে 'দৈনিক একটি করে পেঁপে খাও, ডাক্তার বৈদ্য দূরে তাড়াও'। পেঁপে গাছের পুরুষ ও স্ত্রী ফুল আলাদা গাছে থাকে। পুরুষ ফুলের বোঁটা লম্বা এবং ঝুলে থাকে এবং স্ত্রী ফুল বোঁটাহীন হয়। দেশের বিভিন্ন স্হানে পেঁপে ব্যবসায়িকভাবে চাষ হয়ে থাকে। বর্তমানে ৫৪২০ একর জমিতে ১২৩৭০ মেট্রিকটন পেঁপের চাষ করা হয়। পেঁপের ইংরেজি নাম Papaya এবং বৈজ্ঞানিক নাম Carica Papaya. পুষ্টিমাণ পেঁপের প্রতি ১০০ গ্রামে নিম্নলিখিত পুষ্টি রয়েছে- উপাদান পরিমাণ কাঁচা পেঁপে পাকা পেঁপে জলীয় অংশ ৯০.৭ ৮৮.৪ গ্রাম মোট খনিজ পদার্থ ১.৩ ০.৭ গ্রাম আঁশ ০.৯ ০.৮ গ্রাম খাদ্য শক্তি ৩৬ ৪২ কিলোক্যালরী আমিষ ০.৯ ১.৯ গ্রাম চর্বি ০.৮ ০.২ গ্রাম শর্করা ৬.৪ ৮.৩ গ্রাম ক্যালসিয়াম ১৩ ৩১ মিলিগ্রাম আয়রন ০.৯ ০.৫ মিলিগ্রাম ক্যারোটিন ৫৬০ ৮১০০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন-বি-১ ০.৪০ ০.০৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন-বি-২ ০.০২ ০.০৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি ৬ ৫৭ মিলিগ্রাম সূত্র: পেঁপের পুষ্টিমাণ ও ব্যবহার, বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) যে সব জায়গায় বেশি পরিমাণে চাষ হয় বৃহত্তর রাজশাহী, পাবনা, রংপুর, নাটোর, যশোর, নরসিংদী, খুলনা এলাকায় পেঁপে চাষ হয়। এছাড়াও বগুড়ার লাঠিগঞ্জ, গাবতলী উপজেলা, নামুজা, বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ-এর গুজিয়া, আইলাঘাট, মোকামতলা পেঁপে চাষের জন্য সুপরিচিত। জাত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইস্টিটিউট ১৯৯২ সালে উন্নত গুণাগুণ সম্পন্ন উচ্চ ফলনশীল একটি পেঁপের জাত আবিষ্কার করেছে। এ জাতটির নাম "শাহী" যা "বারি পেঁপে-১" নামেও পরিচিত। বৈশিষ্ট্য আকার: শাহী পেঁপে ১.৬ থেকে ২.০ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট বহুবর্ষী (বহু বছর বাঁচে যে গাছ) গাছ। কান্ডের খুব নীচু থেকে ফল ধরে। ফল আকৃতি ডিমের মতো । ওজন: ৮৫০ থেকে ১০০০ গ্রাম। শাসের রং: গাঢ় কমলা এবং পুরুত্ব ১ ইঞ্চি (প্রায় ২ সেমি)। বীজের সংখ্যা: ফল প্রতি বীজের সংখ্যা ৫০০ থেকে ৫৫০ টি। ফলের সংখ্যা: গাছ প্রতি ফলের সংখ্যা ৪০ থেকে ৬০টি। ফলের টিএসএস ১২%। ফলন: ১ হেক্টর জমি থেকে ৫০ টন পর্যন্ত পেঁপে পাওয়া যায়। এছাড়া ওয়াশিংটন, হানিডিউ, রাঁচি, ইত্যাদি জাতের চাষ হয়ে থাকে। পুষাজায়েন্ট, পুষা ম্যাজেষ্টি, সলো ইত্যাদি জাতগুলো উল্লেখযোগ্য। পেঁপে চাষে কি লাভ? • স্বল্প সময়ে ফল পাওয়া যায়; • এটা বেশি লাভজনক: • এটির পুষ্টিগুণ খুব বেশি: • রমজান মাসে এর চাহিদা অনেক বেশি হয়; • খরচ খুব কম, এক বিঘাতে (৩৩ শতাংশ) মাত্র ৬০০০ টাকা খরচ হয়: • পেঁপের সাথে পেঁয়াজ, মরিচ, পুইশাঁক ও লালশাক করা যায়; • কাঁচা অবস্হায় তরকারী এবং পাকা অবস্হায় ফল হিসাবে খাওয়া যায়। স্হান নির্বাচন/চাষের জন্য পরিবেশ ও মাটি/জমি তৈরি স্হান নির্বাচন পানি দাঁড়াতে পারেনা এমন উর্বর জমি পেঁপের জন্য নির্বাচন করতে হয়। সাধারণত: উঁচু ও মাঝারী উঁচু জমি পেঁপে চাষের জন্য ভালো। চাষের জন্য পরিবেশ ও মাটি জলবায়ু তাপমাত্রা মাটির ধরন উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় পেঁপে ভালো জন্মে, কুয়াশা ও শীতে পেঁপে চাষে খুব সমস্যা হয়। পাতাসহ গাছ পচে যায়। ২১ থেকে ৩০ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রা পেঁপের বৃদ্ধির জন্য ভালো। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় পেঁপে সবখানে লাভজনকভাবে চাষ করা যেতে পারে। এঁটেল মাটিতে (লাল মাটি) পেঁপে খুব ভালো চাষ হয়। এঁটেল মাটিতে চাষকৃত পেঁপে খুব মিষ্টি হয়। তবে সঠিকভাবে যত্ন নিলে প্রায় সব ধরনের মাটিতেই পেঁপের চাষ করা যায়। জমি তৈরি জমি ভালোভাবে চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা করে সমতল করতে হবে ও পানি সরে যাওয়ার জন্য নালা রাখতে হবে যাতে করে জমিতে পানি আটকে না থাকে। রোপণ পদ্ধতি ও রোপণ সময় রোপণ পদ্ধতি পেঁপের জন্য প্রচুর সূর্যের আলো প্রয়োজন। এ জন্য চার হাত দূরত্বে কাঠি পুঁতে রোপণের জায়গা চিহ্নিত করতে হবে। তারপর কাঠিটিকে কেন্দ্র করে এক হাত গভীর ও এক হাত উচ্চতার গর্ত তৈরি করে গর্তে সার ও মাটি মিশিয়ে চারা রোপণের উপযুক্ত করতে হবে। প্রতি গর্তে ৩ থেকে ৭টি করে চারা চার হাত দূরত্বে তিনকোনা আকারে রোপণ করতে হয়। একরে প্রায় ১৩৫০ থেকে ১৫০০ টি চারার প্রয়োজন হয়। রোপণ সময় বছরের যে কোন সময় পেঁপে রোপণ করা যায়। সেচের সুবিধা থাকলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর অথবা জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে রোপণ করা যায় অথবা মৌসুমী বৃষ্টি শুরু হলে মে মাসে রোপণ করা ভালো। তবে মার্চের প্রথম সপ্তাহে পেঁপের চারা লাগাতে হয়। ৩৫ থেকে ৪০ দিন বয়সের চারা লাগানো ভালো। আন্তঃপরিচর্যা আন্তঃপরিচর্যা পেঁপে বাগান আগাছামুক্ত রাখতে হবে। শুকনো মৌসুমে ১৫ থেকে ২০ দিন পরপর সেচ দিতে হয়। মাটি মাঝে মাঝে হালকা কুপিয়ে দেয়া ভালো। রোপণের ৪ থেকে ৫ মাস পর থেকেই ফুল আসা শুরু করে। ফুল দেখে কোনটি স্ত্রী গাছ কোনটি পুরুষ গাছ চেনা যায়। গোল ফুল মেয়ে গাছ ও লম্বা ঝোপা ফুল হবে পুরুষ গাছ। এ সময় প্রতি গর্তে একটি করে স্ত্রী গাছ রেখে আর সব গাছ সে স্ত্রী হোক বা পুরুষ হোক তুলে ফেলতে হবে। তবে প্রতি ২০টি গাছের জন্য একটি করে পুরুষ গাছ রাখতে হয় যাতে পরাগায়ণে সুবিধা হয়। শতকরা ৫টি পুরুষ গাছ জমিতে রাখতে হয়। একরে ৭৫টি পুরুষ গাছ রাখা প্রয়োজন। সেচ ব্যবস্হা ১. সেচ নালায় দিতে হবে। ২. যাতে কোন ভাবেই গাছের গোড়ায় সেচ না যায়। গাছ থেকে ৬ ইঞ্চি দূরত্বে পানি সেচ দিতে হবে। ৩. বর্ষার সময় নালা থেকে পানি বের করে দিতে হবে। সারের মাত্রা ও প্রয়োগ সারের নাম মোট পরিমাণ (গাছ প্রতি) শেষ চাষের সময় দেয় গর্তে দেয় পরবর্তী পরিচর্যা হিসেবে দেয় নতুন পাতা আসলে ফুল আসলে ১ম কিস্তি ২য় কিস্তি ৩য় কিস্তি ১ম কিস্তি ২য় কিস্তি ৩য় কিস্তি গোবর ১২ কেজি ৬ কেজি ৬ কেজি ০ ০ ০ ০ ০ ০ ইউরিয়া ৪৫০ গ্রাম ০ ০ ৫০ গ্রাম ৫০ গ্রাম ৫০ গ্রাম ১০০ গ্রাম ১০০ গ্রাম ১০০ গ্রাম টিএসপি ৪৫০ থেকে ৫৫০ গ্রাম ০ সব ০ ০ ০ ০ ০ ০ এমওপি ৪৫০ গ্রাম ০ ০ ৫০ গ্রাম ৫০ গ্রাম ৫০ গ্রাম ১০০ গ্রাম ১০০ গ্রাম ১০০ গ্রাম জিপসাম ২৪০ গ্রাম ০ সব ০ ০ ০ ০ ০ ০ বোরাক্স ২০ থেকে ৩০ গ্রাম ০ সব ০ ০ ০ ০ ০ ০ জিংক সালফেট ১৫ থেকে ২০ গ্রাম ০ সব ০ ০ ০ ০ ০ ০   পোকামাকড় ও রোগবালাই রোগবালাই রোগের নাম লক্ষণ প্রতিকার ড্যাম্পিং অফ বা চারা পচা রোগ মাটিতে যে ছত্রাক থাকে তার দ্বারা এ রোগ হতে পারে। এ রোগটি সাধারণত: চারা অবস্হায় অথবা বীজ গজানোর সময় হয়ে থাকে। বীজের অংকুর গজানোর সময় এ রোগের জীবাণু অতি সহজেই বীজ অথবা অংকুরকে আক্রমণ করে। এ অবস্হায় বীজ পচে যায় এবং চারা মাটির উপর বের হয়ে আসতে পারেনা। এভাবে অংকুর গজানোর আগেই পচন হতে পারে। চারা গজানোর পরেও জীবাণুর আক্রমণ ঘটে। এ পর্যায়ে চারার গোড়া বা শিকড় পচে গিয়ে আক্রান্ত চারা মাটিতে পড়ে যায় এবং মারা যায়। চারার বয়স বাড়ার সাথে সাথে এ রোগের প্রকোপ কমে যায়। ১. বীজতলার জন্য উঁচু, পানি জমে না, এমন দো-আঁশ মাটির জমি নির্বাচন করা। ২. বীজ লাগানোর আগে বীজতলা কাঠের গুঁড়া, খড় ইত্যাদি দিয়ে পুড়িয়ে নিতে হবে অথবা প্রতি লিটার পানির সাথে ১০ মিলি ফরমালিন মিশিয়ে মাটি ভিজিয়ে শোধন করে নিতে হবে। ৩.  বীজ লাগানোর আগে প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে ভিটাভেক্স-২০০ নামক ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ শোধন করে নিতে হবে। ৪. রোগ দেখা মাত্রই রিডোমিল গোল্ড, ডায়থেন এম-৪৫ অথবা নুবেন নামক ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে অথবা স্টীল প্রতি ১৬ লিটার পানিতে ৫ মিলি হারে মিশিয়ে বীজতলার মাটি ভালো করে ভিজিয়ে দিতে হবে। ৫.  রোগাক্রান্ত জমি পরবর্তীতে ২ থেকে ৩ বছর আর বীজ তলার জন্য নির্বাচন করা যাবে না। কলার রট/কান্ড পচা/গোড়াপচা রোগ মাটিতে যে ছত্রাক থাকে তার দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে। গাছের গোড়ার অংশে এ রোগ হয়ে থাকে। প্রথমে মাটি বরাবর কান্ডের গায়ে পানি ভেজা দাগ দেখা যায়। ক্রমে এ দাগ বড় হয়ে কান্ডকে ঘিরে ফেলে এবং আক্রান্ত অংশ পচে যায়। এ অবস্হায় গাছের পাতা হলুদ হয়ে নেতিয়ে পড়ে, গাছ হেলে পড়ে, আক্রান্ত অংশ ভেঁঙ্গে মাটিতে পড়ে যায় এবং এক পর্যায়ে গাছটি মারা যায়। ১. পেঁপে চাষের জন্য উঁচু, ছায়ামুক্ত, পানি জমে থাকে না এবং পানি বের করার ব্যবস্হা ভালো এমন জমি নির্বাচন করতে হবে। ২. আক্রান্ত গাছ তুলে ধ্বংস করে ফেলতে হবে। ৩.  আক্রান্ত গাছের গোড়ার মাটি ম্যানকোজেব জাতীয় ছত্রাকনাশক (প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে) দিয়ে ১৫ দিন পরপর ২ থেকে ৩ বার ভিজিয়ে দিতে হবে। ৪. যে জমিতে এ রোগ দেখা যাবে সে জমিতে পরবর্তীতে ২ থেকে ৩ বছর পেঁপে চাষ করা যাবে না। ফল পচা রোগ একাধিক ছত্রাকের কারণে এ রোগ হতে পারে। এ রোগের কারণে পেঁপে পচে যায়। প্রাথমিক অবস্হায় ফলের গায়ে কালচে বাদামী রংয়ের দাগ দেখা যায়। ক্রমে এসব দাগ বড় হতে থাকে এবং আক্রান্ত অংশ নরম হয়ে পচন ধরে। এ অবস্হায় ক্ষত স্হানটিতে বসে যাওয়া ভাব দেখা যায়। অনেক সময় ক্ষত স্হানটিতে সাদা তুলার মত ছত্রাক লেগে থাকতে দেখা যায়। ১. গাছে ফলে যেন কোন প্রকার ক্ষত না হয় সেদিকে সাবধান থাকতে হবে। ২. গাছ হতে ফল পাড়ার সময় ফলে যাতে আঘাত না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ৩.  গাছে আক্রমণের হার বেশি হলে রিডোমিল গোল্ড নামক ছত্রাক নাশক (প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে) ১৫ দিন পর পর ২ থেকে ৩ বার স্প্রে করতে হবে। পেঁপের শিকড়ে গিট রোগ এক প্রকার কৃমির আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে। এ রোগ গাছের শিকড়ে আক্রমণ করে যার ফলে শিকড়ের স্বাভাবিকভাবে না বেড়ে অসংখ্য গিটের সৃষ্টি করে। এ অবস্হায় গাছের শিকড় নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে গাছ মাটি হতে প্রয়োজনীয় পানি এবং খাদ্য সংগ্রহ করতে পারে না। এতে গাছের বৃদ্ধি কমে যায়, গাছ হলুদ হয়ে যায় এবং নেতিয়ে পড়ে। গাছের পেঁপের সংখ্যা কমে যায় এবং পেঁপের আকৃতি ছোট হয়ে যায়। ১. যে সব জমিতে আগে পেঁপে বা অন্যান্য ফসলে এই রোগ দেখা দিয়েছে সে সব জমিতে পেঁপে চাষ না করে কপি, মুলা, ভূা ইত্যাদির সাহায্যে ২ থেকে ৩ বছর শস্যপর্যায় অবলম্বন করতে হবে। ২. পেঁপে গাছ লাগানোর ১ মাস পরে প্রতি একরে জমিতে ২৪২৯ থেকে ৩২৩৮ কেজি হারে মুরগীর বিষ্টা জমিতে প্রয়োগ করে তা হালকা সেচের মাধ্যমে জমিতে পচিয়ে নিতে হবে। ৩. পেঁপে গাছ লাগানোর সময় প্রতি মাদাতে ১০ গ্রাম পরিমাণ ফুরাডান ৫জি নামক কৃমি নাশক প্রয়োগ করতে হবে এবং ৩ থেকে ৪ মাস পর পর পুনরায় প্রয়োগ করতে হবে। পেঁপের রিং স্পট রোগ এক প্রকার ভাইরাসের দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে। প্রাথমিক অবস্হায় এ রোগের লক্ষণ পাতায় প্রকাশ পায়। আক্রান্ত গাছের পাতা হলুদ হয়ে যায়, পাতাগুলো গভীরভাবে খাজকাঁটা ভাব ধারণ করে এবং সরু হয়ে যায়। এ অবস্হাতে 'সু-ষ্ট্রিং' বলে। গাছের কান্ড ও পাতার বোঁটায় লম্বাটে তেলতেলে দাগ দেখা যায়। ফলে এ রোগের সুস্পষ্ট লক্ষণ দেখা দেয়। ফলের গায়ে অসংখ্য রিং এর মত দাগ পড়ে, ফল ছোট ও বিকৃত হয়ে যায়। ফলন কমে যায়। চারা অবস্হায় গাছ আক্রান্ত হলে ফুল হয় না। ১. সুস্হ গাছ হতে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। ২. রোগাক্রান্ত গাছ দেখা যাওয়ার সাথে সাথে কেটে ধ্বংস করে ফেলতে হবে। ৩. একই সাথে বা কাছাকাছি লাউ জাতীয় ফসলের চাষ করা যাবে না। ৪. নিয়মিতভাবে সুমিথিয়ন ইত্যাদি কীটনাশক ঔষধ ১৬ লিটারে ১৫ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করে জাবপোকা বা বাহক পোকা দমন করতে হবে।   ফসল সংগ্রহ/ফলন/ফলের যত্ন/মোড়কীকরণ/ফসল সংগ্রহের পর করণীয় ফসল সংগ্রহ ফল ধরার দু’মাস পরেই সবজি হিসেবে এগুলো বাজারজাতকরণের জন্য সংগ্রহ করা যেতে পারে। পাকা খাওয়ার জন্য যখনই পেঁপের গায়ে একটু হলুদ রং দেখা দেয় তখনই সংগ্রহ করা উচিত। গাছের সব পেঁপে একসাথে সংগ্রহ করা যায় না। যখন যে ফলের রং হলুদ হবে তখনই সেটি সংগ্রহ করতে হয়। এ অবস্হায় সংগ্রহ করলে পেঁপে সম্পূর্ণ পাকতে ৩ থেকে ৪ দিন সময় নিয়ে থাকে। সংগ্রহের পর ফলগুলো এক সারিতে খড়ের ওপর রেখে খড় দিয়ে ঢেকে রাখলে সমানভাবে পাকে। ফল ধরার ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহের উপযুক্ত হয়ে থাকে। ফলন পেঁপের ফলন গাছ প্রতি ৩০ থেকে ৬০ কেজি । ফলের যত্ন পেঁপে গাছের প্রতি পর্বে ফল আসে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিপর্বে একটির পরিবর্তে এক সাথে বেশ ক’টি ফল আসে এবং এগুলো সঠিকভাবে বাড়তে পারে না। এসব ক্ষেত্রে ছোট অবস্হাতেই প্রতিপর্বে দু’একটি ফল রেখে বাকি সব ফল ভেঁঙ্গে ফেলতে হয়। মোড়কীকরণ ঝাকিতে খড় বিছিয়ে ১ ইঞ্চি পরিমাণ উঁচু করে পেঁপে পেপার দিয়ে মুড়িয়ে সারি সারি করে বিছিয়ে রেখে বাজারজাত করা যায়। ফসল সংগ্রহের পর করণীয় • ফসল তোলার পর পেঁপে মাটিতে রাখা যাবে না; • ঝাকি কিংবা পেঁপে গাছের পাতা ছিঁড়ে তার উপর রাখতে হবে। এটা হলো পাকা পেঁপের ক্ষেত্রে, কাঁচার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা নেই। সংরক্ষণ পদ্ধতি/বংশ বিস্তার/বিকল্প ব্যবহার/অধিক ফলনের জন্য পরামর্শ সংরক্ষণ পদ্ধতি • চটের ছালা মাটিতে বিছিয়ে ২ থেকে ৩ দিন পাকা পেঁপে রাখা যাবে; • কাঁচা পেঁপে ৩ দিন পর্যন্ত রাখা যায়; • পানিতে ভিজিয়ে কাঁচা পেঁপে ৪ থেকে ৫ দিন রাখা যায়। বীজ সংরক্ষণ পাকা পেঁপের বীজ যেগুলো গোল ও বড় আকৃতির সেগুলো থেকে বীজ বের করে পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে পলিথিন ব্যাগে রাখা যায়। এভাবে এক বছর রাখা যায়। বংশ বিস্তার পেঁপের বংশবিস্তার বীজ দ্বারাই হয়। তবে বিশেষ কোন জাত সংরক্ষণ ও আবাদ করতে চাইলে নিয়ন্ত্রিত পরাগায়ণের মাধ্যমে (হাতের সাহায্যে স্ত্রী ফুলটিকে পুরুষ ফুলের সাথে ঘষে দেওয়া) বীজ উৎপাদন করা উচিত। বীজের গায়ে যে পিচ্ছিল পদার্থ থাকে তা অঙ্কুরোদগম (বীজ বের হওয়া) রোধ করে। সুতরাং পাকা ফল থেকে বীজ সংগ্রহের পর ছাইয়ের সাথে মিশিয়ে পাটের বস্তার উপর ঘষে পানিতে ধুলে পিচ্ছিল পদার্থ চলে যায়। এর পরপরই বীজ রোপণ করলে দু’সপ্তাহের মধ্যে চারা বের হয়। অথবা বীজ পরিষ্কার করার পর ভালোভাবে শুকিয়ে ছিদ্রহীন এবং বাতাস ঢুকতে পারে না এমন পাত্রে সংরক্ষণ করলে অনেক বছর ধরে বীজ ভালো থাকে। সংরক্ষণ করা বীজের অংকুরোদগম হতে দুই থেকে চার সপ্তাহ সময় নেয়। বীজতলায় বীজ না ফেলে সরাসরি ছোট ছোট পলিব্যাগেও রোপণ করা হয়। প্রতি পলিব্যাগে ৪ থেকে ৫ টি বীজ ফেলা হয় এবং বীজ গজানোর পর ৩ টি চারাকে বাড়তে দিতে হয়। যেহেতু এদেশের সব পেঁপে জাতই একলিঙ্গী (হয় পুরুষ নয়তো স্ত্রী) এবং চারা অবস্হায় কোনটা স্ত্রী গাছ বা কোনটা পুরুষ গাছ চেনা যায় না, সেহেতু ৩টি চারা রাখার পরামর্শ দেয়া হয়। যাতে করে ৩টির মধ্যে অন্তত: ১টি স্ত্রী গাছ পাওয়া যায়। বীজতলায় চারা উৎপাদনের বেলায় ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি (১০ থেকে ১৫ সেমি) উঁচু ৩×১০ ফুট আকারের বীজতলা তৈরি করতে হয়। বীজতলার মাটির মিশ্রণ হবে তিন ভাগের এক ভাগ জৈব সার, তিন ভাগের এক ভাগ বালি এবং তিন ভাগের এক ভাগ মাটি। এর সাথে ৫০০ গ্রাম টিএসপি সার মিশালে ভাল হয়। এরকম বীজতলায় ১/২ ইঞ্চি (১ সেমি) মাটির গভীরে বীজ ফেলার পর ঝরনা দিয়ে পানি দিতে হয়। চারা না গজানো পর্যন্ত বীজতলা ৬ ইঞ্চি (১৫ সেমি) উঁচু করে খড় দিয়ে ঢেকে দেয়া ভালো। ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে চারা বের হয়। বীজ বপনের পর ৫০ থেকে ৬০ দিনের বয়সের চারা জমিতে রোপণের উপযুক্ত হয়। সাধারণত: জুন-জুলাই এবং অক্টোবর-নভেম্বর মাস পেঁপের চারা উৎপাদন সময়। এক একর জমিতে রোপণের জন্য প্রায় ৮০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। বিকল্প ব্যবহার • সবজি/তরকারী/ভাজি; • সালাদ; • ইফতারী (পাকা পেঁপে); • পেঁপেনী ইত্যাদি। অধিক ফলনের জন্য পরামর্শ • নিয়মিত সার দিতে হবে। • ভালো চারা রোপণ করতে হবে। • ভিটামিন জাতীয় ঔষধ দিতে হবে। আয়-ব্যয় হিসাব খরচের বিবরণ শ্রম দিবস (শ্রমিক সংখ্যা) মজুরী হার (টাকা) ব্যয় (টাকা) ক. শ্রমিক বাবদ ব্যয় - - - ১. জমি তৈরি, গর্ত তৈরি ও আগাছা বাছাই ১০ ১০০.০০ ১০০০.০০ ২. বীজ বপন ১৮ ১০০.০০ ১৮০০.০০ ৩. নিড়ানী, গাছের গোড়ায় মাটি ও আইল তোলা ১৮ ১০০.০০ ১০০০.০০ ৪. সার ও কীটনাশক প্রয়োগ ৬ ১০০.০০ ৬০০.০০ ৫. ফসল তোলা ১৮ ১০০.০০ ১৮০০.০০ ক. মোট ব্যয় - - ৭০০০.০০ খ. উপকরণ বাবদ পরিমাণ মূল্য (টাকা) ব্যয় (টাকা) ব্যয় - - - ১. চারা ৫৫০ টি ২.০০/চারা ১১০০.০০ ২. গোবর ৪৫০০ কেজি ০.৭৫/কেজি ৩৩৭৫.০০ ৩. জৈব সার ৪৫০ কেজি ৬.০০ ২৭০০.০০ ৪. রাসায়নিক সার ইউরিয়া ১৫০ কেজি টাকা ৬.০০/কেজি ৯০০.০০ টিএসপি ১৫০ কেজি ২০.০০/কেজি ৩০০০.০০ এমওপি ১৫০ কেজি ১৭.০০/কেজি ২৫৫০.০০ জিপসাম ৯০ কেজি ৭.০০/কেজি ৬৩০.০০ দস্তা ৯ কেজি ১৬৫.০০/কেজি ১৪৮৫.০০ বোরাক্স ৯ কেজি ১১০.০০/কেজি ৯৯০.০০ ৫. সেচ ১০ টি ২০০.০০/সেচ ২০০০.০০ ৬. কীটনাশক ঔষধ - - ১০০০.০০ ৭. পরিবহন - - ৩০০০.০০ খ. মোট ব্যয় - - ২২৫৫০.০০ সর্বমোট ব্যয় (ক+খ) ২৯৫৫০.০০ মোট আয় ২৫ কেজি/গাছ ২৫×৫৫০, ৬.০০ টাকা হারে ৮২৫০০.০০ নীট আয় (৮২৫০০.০০-২৯৫৫০.০০) ৫২৯৫০.০০ সূত্র: কৃষক মোঃ মাহাফুজার রহমান, পিতা: আকবর আলী প্রামানিক, গ্রাম: সেকেন্দ্রাবাদ নয়াপাড়া, ইউনিয়ন: রায়নগর, থানা: শিবগঞ্জ, জেলা: বগুড়া, তারিখ:০৪/০৯/২০০৭। তথ্যসূত্র ১. পেঁপের উন্নত জাত ও উৎপাদন কলাকৌশল, উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, জয়দেবপুর, গাজীপুর, জুন ২০০৬। ২. উচ্চমূল্য ফসলের উৎপাদন প্রযুক্তি (প্রশিক্ষণ মডিউল-২), ফল ও মসলা জাতীয় ফসল, নর্থওয়েষ্ট ক্রপ ডাইভারসিফিকেশন প্রজেক্ট, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫, মে, ২০০৬। ৩. কলা এবং পেঁপের প্রধান রোগসমূহ এবং তাদের দমন ব্যবস্হাপনা, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০১, ডিসেম্বর ২০০৪ । ৪. 'পেঁপে চাষ', কৃষি তথ্য সার্ভিস শক্তিশালীকরণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প, কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫। সেপ্টেম্বর, ২০০৬।
Sunday, 26 September 2010 | 1687 hits

<< Start < Prev 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 Next > End >>
Page 21 of 32


Powered by AlphaContent 4.0.10 © 2005-2014 - All rights reserved